মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, ১১:০২:৩৪

কাপাসিয়ার রহস্যময় প্রাডো গাড়ির মালিকের সন্ধান

কাপাসিয়ার  রহস্যময় প্রাডো গাড়ির মালিকের সন্ধান

এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ার শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া সেই আলোচিত বিলাস বহুল রহস্যময় প্রাডো গাড়ির মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। গাড়ির মালিক গত দেড় বছর আগে গুম হওয়া ব্রাহ্মবাড়িয়ার জাতীয় পার্টি নেতা খন্দকার হেফজুর রহমানের। গতকাল সোমবার রাতে তার স্ত্রী সালেহা বেগম ঢাকার সি আই ডি’র সহযোগিতায় কাপাসিয়া থানায় এসে গাড়িটি সনাক্ত করেন। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের এই তথ্যগুলো জানান।   


জানা যায়, গুম হওয়া খন্দকার হেফজুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম জানান,  গত ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টার দিকে ঢাকার বাড্ডার ৬৭/৩ নম্বর বাড়ি থেকে তার নিজস্ব প্রাডো গাড়িটি নিয়ে বের হন। তখন তার সাথে দেহরক্ষী ক্যাপ্ট. শওকত, আব্দুল আউয়াল, চালক শাহ আলমকে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে গুলশানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। গাড়িটি গুলশান – ১ এর চেক পোষ্টের লিং রোডের মাথায় পৌছলে অপরিচিত কয়েকজন সাদা পোষাকধারী গাড়িটি রোধ করে। তারা অস্ত্রের মুখে অন্যদের নামিয়ে দিয়ে তার স্বামী হেফজুর রহমানকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। তখন থেকে স্বামীর সন্ধান এবং গাড়িটির কোন হদিস  পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ছালেহা বেগম বাদী হয়ে পর দিন ৮ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করতে গেলে অজ্ঞাত কারনে থানা পুলিশ তখন মামলা নিতে গড়িমসি করে। নিরুপায় হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেন। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর গুলশান থানা পুলিশ মামলা গ্রহন করে। মামলা নং- ৬৩। ওই সময় মামলাটি তদন্ত করেন এসআই মোহাম্মদ আলী হাসান। কিন্ত ওই সময় তিনি এই মামলার কোন অগ্রগতি বা রহস্য  উন্মোচন করতে পারেননি।


দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর গত ১৯ জানুয়ারী কাপাসিয়া সদরের দস্যুনারায়নপুর বাজার সংলগ্ন  শীতলক্ষ্যা নদীর মাছের ঘের থেকে হারিয়ে যাওয়া গাড়িটি কাপাসিয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে। গাড়িতে ব্যবহৃত নাম্বার প্লেটে ঢাকা মেট্রো- ঘ- ১১- ২০২৯ লিখা ছিল।  অনুসন্ধান করে এই নাম্বারটির মালিকের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। পরে কাপাসিয়া থানার এসআই মোঃ দুলাল মিয়া আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বার দিয়ে বিআরটিএতে অনুসন্ধান চালায়। এতে প্রকৃত মালিক ও গাড়ির নাম্বার পাওয়া যায়। ঢাকা মেট্রো- ঘ- ১১- ৫৭৫৬, রেজিঃ তারিখ- ২৭/১১/২০০৪। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন ঢাকার সিআইডি গুলশান উত্তর ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল কাইউম।     


নিখোঁজ হেফজুর রহমানের স্ত্রী সালেহা বেগম জানান, তিনি জাতীয় পার্টি (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ) থেকে ব্রাম্মণবাড়িয়া- ৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাই সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। জমি কেনা বেচার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। তার বাড়ি কসবা উপজেলার কাইয়ূমপুর ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামে। তিনি আরো বলেন, দেহরক্ষি, গাড়ি চালক ও গাড়ি পাওয়া গেলেও এখনও সন্ধান মিলেনি আমার স্বামীর।
এ ব্যাপারে সিআইড কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কাইউম জানান, হেফজুর রহমান নিখোঁজের রহস্যে এখনো উদঘাটন করতে পারেননি।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/এমটিনিউজ২৪/এইচএস/কেএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে