শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭, ১১:০৮:৩৮

পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতার আশংকা

পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতার আশংকা

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে : কেশবপুর উপজেলার হরিহর ও ভদ্রা নদীর তলদেশ পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে উপজেলার শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতার আশংকা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার কাশিমপুরে ভদ্রা নদীতে শুকনো মৌসুমে ইতোপূর্বে ক্রসড্রাম দেওয়া হত। যার ফলে শুকনো মৌসুমে ভদ্রা ও হরিহর নদীতে পলি উঠতে পারতো না এবং বর্ষা মৌসুমে ক্রসড্রাম তুলে দেওয়া হত। যার ফলে বর্ষ মৌসুমে ঐ নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হওয়ায় কেশবপুরে জলাবদ্ধতা হত না। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবৎ কাশিমপুরে ভদ্রা নদীতে ক্রসড্রাম না দেওয়ায় ভদ্রা ও হরিহর নদীতে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় গত বছর কেশবপুরের ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।

বন্যায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। অর্ধাহারে-অনাহারে পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করে। তার পরও কাশিমপুরে ভদ্রা নদীতে শুকনো মৌসুমে ক্রসড্রাম দেওয়া হয়নি। যে কারণে ভদ্রা ও হরিহর নদীর তলদেশ পলী দ্বারা ভরাট হয়ে গেছে। যার ফলে গত দুই দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পনি উক্ত নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে না।

বিশেষ করে মির্জাপুরের নেপাল নাথের ব্রীজ হতে বড়েঙ্গা হরিহর নদীর মোহনা হয়ে কাশিমপুরের ভদ্রা নদী পর্যন্ত নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে হরিহর ও ভদ্রা নদীর তীরবর্তী গ্রাম রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যে কোন সময় শাতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতার আশংকা দেখা দিয়েছে।

এদিকে কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন শনিবার দিনব্যাপী ভদ্র নদী ও তার তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘নিন্মচাপে গতকাল সারা রাত বৃষ্টি ঝরেছে।ভদ্রা,হরি তীরবর্তী মানুষের হাল অবস্হা সরেজমিনে পরিদর্শনে সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। মাঝে জোহর নামজের আধ ঘন্টা বিরতি।’

আমির হোসেন বলেন, ‘ভদ্রা নদী তীরবর্তী নারী, পুরুষের একটাই বক্তব্য মৃর্জাপুর নেপাল নাথের ব্রীজ থেকে বড়েঙ্গা হরি নদীর মোহনা ভায়া মংগলকোট ব্রীজ এখনই সমস্ত পাটা তুলে পলি অপসারনে লংব্যুম কাটার লাগিয়ে কাজ শুরু করা হোক।’

নদী তীরবর্তী গ্রামের মনুষ চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেতে জরুরী ভিত্তিতে মির্জাপুরের নেপাল নাথের ব্রীজ হতে বড়েঙ্গা হরি নদীর মোহনা পর্যন্ত উভচর মেশিন দ্বারা খননের দাবী জানিয়েছেন।

এমটিনিউজ/এসএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে