বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭, ০৯:৪৯:৫৩

মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট : হানিফ

মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট : হানিফ

কুমিল্লা থেকে : ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কখনও মনেপ্রাণে চাননি তিনি। সেই জিয়াউর রহমানের গঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের শরীক দল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ তৈরির কারখানা পাকিস্তানই পরিচালনা করছে তাদের।’

বুধবার (২২ নভেম্বর) কুমিল্লা নগরীর টাউনহল মাঠে কুমিল্লা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

বিএনপিকে লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘দেশে আওয়ামী লীগ এমন কোনও অবস্থা তৈরি করেনি যে, বাংলাদেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। এমনকি এই দলকে টেনেহিঁচড়ে অসম্মানজনকভাবে ক্ষমতা থেকে নামানোর শক্তি বাংলাদেশের কোনও রাজনৈতিক দলের নেই। জনগণ সবসময় আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষে আছে।’

তিনি বলেন, জনগণ যখন পক্ষে থাকবে তখন আর কেউ ক্ষমতা থেকে অপমানজনকভাবে সরাতে পারবে না। তাই কোনও ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবেন না। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের পাশে ছিল। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে পতন ঘটানো, অসম্মানিত করে বিদায় করার সেই শক্তি বাংলাদেশের অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের আছে কিনা তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ আছে।

গত ২০ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে। হয় তিনি সম্মানজনকভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন। না হয় তাকে অসম্মানজনকভাবে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হবে।’

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কুমিল্লার টাউনহল মাঠে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, দলবদলের পল্টিবাজ হচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। যেটাকে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় ডিগবাজি। তার চেয়ে নিম্নরুচি সম্পন্ন রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে আছে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। সেই ধরনের একজন ব্যক্তি সরকার সম্পর্কে এমন উক্তি করলে তা জনগণের কাছে ধৃষ্টতা বলেই মনে হয়। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে মওদুদ আহমদ চট্টগ্রাম যাওয়ার পর ফেরার সময় কুমিল্লায় দুর্ঘটনা হয়। তখন কুমিল্লা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেই সময় তাকে ফেলে রেখেই এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন মওদুদ। এটা তার একটা অভূতপূর্ব দক্ষতা! রাজনীতিতে পল্টি খাওয়া ও এই দল থেকে ওই দলে যাওয়ার মতো এত দক্ষ লোক বাংলাদেশের ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই। ভবিষ্যতে তার মতো এমন কাজ আর কেউ পারবে কিনা সন্দেহ আছে। মওদুদ সাহেব একজন পল্টিবাজ, দুর্নীতিবাজ।’

কুমিল্লা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, সাংসদ হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, সুজিত রায় নন্দী, আরফানুল হক রিফাত, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এমটিনিউজ/এসএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে