রবিবার, ১২ মার্চ, ২০১৭, ০৬:৩৭:০৬

ভ্রমণ মানবমনে জাগায় পরম তৃপ্তি

ভ্রমণ মানবমনে জাগায় পরম তৃপ্তি

পাঠকই লেখক ডেস্ক: একপশলা বৃষ্টির মতো শুষ্ক নিরানন্দ জীবনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয় ভ্রমণ। ভ্রমণ দেয় অপরিসীম আনন্দ। তাই তো সুতাকাটা ঘুড়ির মতো আমি হানা দেই আমার পছন্দের ভ্রমরীয় স্হানে। শুধু পাঠ্য বইয়ের শিক্ষা আমাদের মনকে যথাযথ ভাবে গড়ে তুলতে পারেনা।  তাই মাঝে মাঝে সকল শিক্ষার্থীর উচিত ভ্রমণে বের হওয়া।

এবছরের ২৩ এ ফেব্রুয়ারি রওনা হলাম গোপালগঞ্জ থেকে আমাদের কাঙ্খিত গন্তব্য সাগরকন্যা কুয়াকাটায়।  সকাল নটায় যাত্রা শুরু করলাম.  আমি আনন্দে সারাপথ গান গাইতে থাকলাম আর শরৎচন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাস পড়তে লাগলাম ! আহ কি আনন্দ।

এক অসাধারন সুখানুভূতি আমার সারা দেহও মনে খেলে যাচ্ছিল। কল্পনায় আমি আগেই কুয়াকাটা পৌঁছে গিয়েছিলাম যদিও আমাদের পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা ৭ টা বেজে গিয়েছিলো।  ঐদিন আর আমাদের সূর্যাস্ত দেখা হলোনা।  আফসোস নিয়ে পর্যটন মোটেলে আমরা চেকইন করলাম।  রাতে খাবার খাওয়ার  পর ১২ টার দিক সমুদ্র সৈকতে গিয়েছিলাম।  এই আমার জীবনের প্রথম চাক্ষুষ সমুদ্র দর্শন। প্রথম দর্শনেই সমুদ্রের অমোঘ প্রেমে পড়ে গেলাম। রাতে যেন সমুদ্র যেন আরও উদার এবং সমুদ্রকে যেনে রাতে আরো আপন করে পাওয়া যায়।  ঝিরিঝিরি হাওয়া আর তারার সাথে খেলতে খেলতে সমুদ্রের ডাক শুনতে লাগলাম। মুগ্ধতার ঘোর কিছুতেই কাটতে চাইছিল না।

ভোরে যে সূর্যোদয় আমাদের দেখতেই হবে।  সমুদ্রের পানির ভেতর থেকে বের হয়ে আসে এক রক্তাভ সূর্য। এ দৃশ্য যে সত্যিই উপভোগ্য।  ভোর ৪.৩০ কাউয়ার চরের উদ্দেশ্য আমরা রওনা হলাম।  সূর্যোদয় কাউয়ার চর থেকে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।  ভোরের শিশির আর কুয়াশা গায়ে মেখে কেওড়া আর ঝাউবন দেখতে দেখতে চলে গেলাম কাউয়ার চরে।  দেখলাম সূর্যিমামাকে একটু একটু করে টুপ করে সমুদ্র থেকে উঠে এলো।  আমার চক্ষু যেনো স্বার্থক হলো।  লালকাঁকড়া দেখলাম, দু হাত ভরে ঝিনুক কুড়ালাম,ঝাউবনে ঘুরলাম, আহ কি আনন্দ। এরপর গঙ্গামতির চর দেখলাম,ইলিশ পার্কে গেলাম।  বৃহৎ আকৃতির সীমা বৌদ্ধ বিহার দেখলাম।

কুয়াকাটার সবচেয়ে পুরোনো কুয়াটির সামনেই রয়েছে প্রাচীন এই বৌদ্ধ মন্দির।   এই মন্দিরে রয়েছে প্রায় সাঁইত্রিশ মন ওজনের  বিশালঅষ্ট ধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি। সীমা বৌদ্ধ বিহারের পাশে রয়েছে পুরাতন একটি কুয়া।

ঐতিহাসিক কুয়া দেখলাম। আর রাখাইন পাড়ায় গিয়ে অভিভূত হয়ে রাখাইনদের তৈরি জিনিস, বিশেষ করে ওদের হাতে তৈরি পোশাক দেখলাম।  আমি একটা খাদি ফতুয়া কিনলাম। এরপর সমুদ্র স্নানের পালা।  আমরা সবাই পরম আনন্দে সমুদ্রের জলে নিজেকে ভাসিয়ে দিলাম।  সমুদ্র লাফালাম,খেললাম, নাচলাম।  তবে এতো আনন্দের মাঝে একটা অাফসোস রয়েই গেলো সময় স্বল্পতার জন্য সূর্যাস্ত টা দেখা হলো না। পরিশেষে একরাশ আনন্দ আর মজার মজার অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়িতে ফিরলাম।
১২ মার্চ ২০১৭/এমটিনিউজ২৪/এইচএস/কেএস

 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে