রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:৩১:১২

কেন ভাই সেজে নিজের স্ত্রীকেই বিয়ে দিলেন স্বামী? অবাক হবে আপনিও

কেন ভাই সেজে নিজের স্ত্রীকেই বিয়ে দিলেন স্বামী? অবাক হবে আপনিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে একটি চাঞ্চল্যকর বিয়ে-প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। নববধূকে বিয়ের পর জানা যায়, তিনি আগেই বিবাহিত ছিলেন। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের ‘ভাই’ পরিচয়ে উপস্থিত থেকে কন্যাদানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি আসলে ওই নারীর স্বামী। এ ঘটনায় প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

অভিযোগ অনুযায়ী, গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবদানি এলাকার বাসিন্দা রতন শর্মা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন। রতনদের পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের কেউই বিবাহিত না হওয়ায় তাদের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, তাদের প্রতিবেশী সোনু তিওয়ারি তাদের সঙ্গে মোরেনার বাসিন্দা সোনু ওরফে অজয় চৌহানের পরিচয় করিয়ে দেন। অজয় চৌহান নিজেকে এক দরিদ্র পালিত বোনের অভিভাবক পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি তার বোন রাধা ওরফে দীক্ষা মুদগলের জন্য পাত্র খুঁজছেন। মেয়েটির ছবি ও সরাসরি সাক্ষাতের পর রতনের পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে রতন শর্মা জবলপুর থেকে গোয়ালিয়রে আসেন। গত ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিয়েতে সোনু চৌহান কনের ভাই পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন। পরে ৭ মে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী গোয়ালিয়রে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের জন্য রতনের পরিবার প্রায় ৭ লাখ রুপি ব্যয় করে। অনুষ্ঠানে মায়া দেবী নামে এক নারী কনের মা পরিচয়ে কন্যাদান করেন। এ ছাড়া শিলপি পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার এবং সত্যেন্দ্র চৌহানও কনের আত্মীয় পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ের পর নববধূ স্বামীর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়, কারণ তিনি প্রায় সবসময় মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে চ্যাট করতেন। এক রাতে রতন তার ফোন পরীক্ষা করে হোয়াটসঅ্যাপের কিছু বার্তা দেখতে পান। সেখানেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে যে, বিয়েতে ভাই পরিচয়ে অংশ নেওয়া সোনু ওরফে অজয় চৌহান আসলে ওই নারীর স্বামী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দীক্ষা ও সোনু চৌহান ২০২৪ সালে আগ্রার একটি আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে করেন এবং এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন।

রতন শর্মার অভিযোগ, পুরো চক্রটি পরিকল্পিতভাবে তার পরিবারকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছিল, যাতে লাখ লাখ রুপির নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়া যায়। প্রতারণার বিষয়টি জানার পর পরিবার নববধূকে নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করে।

পুলিশ রাধা ওরফে দীক্ষা মুদগল, সোনু ওরফে অজয় চৌহান, মায়া দেবী, শিলপি পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার, সত্যেন্দ্র চৌহান এবং সোনু তিওয়ারির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযুক্ত নারীকে একটি ওয়ান-স্টপ সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং সোনু চৌহানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে