সন্তানকে বখাটে হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এই বিষয়গুলো মেনে চলুন

১১:৫৮:৩৯ সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯

সর্বশেষ সংবাদ :

     • টমেটো ছাড়াই তৈরি হয় টমেটো সস, কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ লাখ টাকা জরিমানা     • দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ‘আল্লাহ’ লেখা কাগজ সংরক্ষণই করছেন এই বৃদ্ধ     • ভারতে মাদরাসা চত্বরে মন্দিরও গড়তে চাই: সালমা আনসারি     • সিরাজগঞ্জে বিয়ের গাড়িটিকে দুই কিলোমিটার হেঁচড়ে নিয়ে যায় ট্রেন, বর-কনেসহ নিহত ৯     • বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্স, বড় স্পন্সর হারাল ভারত!     • ভারতে হামলার ভয়ে মাদ্রাসার ভেতরেই মন্দির তৈরি করছেন মুসলিমরা!     • অত্যাচারিত সেই কৃষ্ণাঙ্গই লিখলেন শ্বেতাঙ্গ প্রভুদের গৌরবগাঁথা     • রংপুরের পল্লীনিবাসে প্রস্তুত এরশাদের কবর     • ম্যাচ হেরে মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মার্টিন গাপটিল     • এরশাদের ৭৫ কোটি টাকার সম্পদ কে কতটা পেলেন!

মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই, ২০১৯, ০৭:৩৯:৩০

সন্তানকে বখাটে হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এই বিষয়গুলো মেনে চলুন

সন্তানকে বখাটে হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এই  বিষয়গুলো মেনে চলুন

রিয়াজুল হক : এখনকার বাচ্চারা খুব অল্প বয়স থেকেই খামখেয়ালী হয়ে থাকে। বাবা-মায়ের শাসন বলতে তো এখন কিছু নেই। বেশি বকাবকি করলে সন্তান ঘর থেকে চলে যায়। অনেকে আবার আত্মহত্যা করে বসে। সন্তানদের বাবা-মায়ের প্রতি দায়-দায়িত্ব যেন কমতে বসেছে। 

তবে আমরা অনেকেই বুঝি না যে, সন্তান বখাটে হবার পেছনে বাবা-মা অনেক সময় প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে থাকে। সন্তান মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ে। স্কুল, কলেজে যাবার সময় তার বাইক খুবই দরকার। এই চাহিদা পূরণ করে আপনি আপনার সন্তানকে অহেতুক ভোগ বিলাসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। 

বিভিন্ন বেয়াড়া ছেলেদের সঙ্গে রাস্তায় রাস্তায় বাইক চালিয়ে ঘুরে বেড়াবে। সন্তান বেয়াড়া হবার প্রাথমিক শিক্ষা আসলে পরিবার থেকেই পেয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ের মায়েরা চাকরি করে। হাতে টাকা আছে। সন্তান যদি এক বেলা না খেয়ে দামী কোন কিছু (অত্যন্ত প্রয়োজনীয়) কিনে দেবার জেদ ধরে, মায়েরা কিনে দিচ্ছে। 

এতে করে কি সন্তানের মঙ্গল হচ্ছে? আসলে অমঙ্গল ডেকে আনা হচ্ছে। ধরুন, আপনার সন্তান মাদকসেবী। আপনার দিন রাতের ঘুম হারাম। অথচ একদিনে আপনার সন্তান এই বিপথে পা বাড়ায়নি। যখন দিনের পর দিন বাইরে থেকেছে, তখন তার কোন খোঁজ নেননি। যখন আসক্তির শেষ পর্যায়ে, তখন আপনার টনক নড়েছে।

এখন অনেকের কাছেই শোনা যায়, সন্ধ্যায় বাবা অফিস থেকে ঘরে ঢুকলে, আদরের সন্তান বাবার মুখের দিকে তাকায় না, হাতের দিয়ে তাকিয়ে থাকে। কি এনেছে তা দেখার জন্য। এটা বাবা-মায়েদের ভুল। বেশি ভালোবাসা দেখাতে যেয়ে, সন্তানের সর্বনাশ ডেকে আনছি। সন্তানকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সহায়তা করুন। এখন অনেক ধনী পরিবারের স্কুলের ছেলেরা বিভিন্ন গ্যাং তৈরি করছে। 

পরিবারের মধ্যে খেয়াল করারও কেউ নেই। ১০-১২ বছরের ছেলেরা বিভিন্ন আজব স্টাইলে চুল কাটছেন, পরিবারের কেউ কিছু বলছে না। বাবা কিছু বললে, মা রেগে সন্তানের পক্ষ নিচ্ছে কিংবা মা কিছু বললে, বাবা সন্তানের পক্ষে চলে যাচ্ছে। সন্তান প্রশয় পাচ্ছে। নিজেদের সন্তানদের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বাবা-মাকে কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত।

১. বাবা যখন সন্তানকে শাসন করবে, মায়েদের সেই সময় নিরব থাকা উচিত। বাবা বকা দেয়ার সময় মা যদি বলে ওঠে, “এত টুকু বাচ্চাকে বকাবকি করছো কেন?” কিংবা “যথেষ্ট হয়েছে আর না”। 

মনে রাখবেন, বাবার প্রতি সন্তানের ভয় আপনি ভেঙে দিলেন। মায়েরা চুপ থাকলে, সন্তান ভেবে নিতো বাবার বকা খাওয়া যাবে না। কারণ বাবা রেগে গেলে তাকে শাসন করবে। কেউ ঠেকাতে আসবে না।

২. বাবা মা একসঙ্গে কখনও সন্তানকে শাসন করবেন না। একজন বকাবকি করলে, অন্যজন চুপ থাকবেন। এতে করে সন্তান নিজেকে অসহায় মনে করবে না। আবার প্রশয়ও পাবে না।

৩. সন্তানের সামনে বাবা-মা কখনও ঝগড়া করবেন না। এতে করে সন্তান নিজেকে একা মনে করে। নিজের একাকিত্ব দূর করার জন্য সন্তান বিভিন্ন সঙ্গ দোষে জড়িয়ে পড়ে। আর বর্তমান সময়ে সঙ্গ দোষের প্রভাব এতটাই মারাত্মক, এখান থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। কারণ আগে সঙ্গ দোষে কেউ কেউ সিগারেট খেতো কিংবা পড়া ফাঁকি দিয়ে জোট বেধে সিনেমা হলে যেত। আর এখন সঙ্গ দোষের কারণে সন্তান মাদকসেবী হচ্ছে, বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করছে।

৪. সন্তানের সামনে মায়েরা বাবাদের সঙ্গে তর্ক করবেন না। এর ফলে সন্তান বাবাকে আর ভয় করে না। আর বাবাকে ভয় না করলে, মা'কে ও ভয় করবে না। এই সাধারণ বিষয়টি আমাদের অনেক মায়েরাই বোঝে না।

৫. মায়েরা চাকরি করে। তবে সন্তান যখন কোন কিছু আবদার করবে, তখন অবশ্যই ভালো খারাপের বিবেচনা করতে হবে। যদি খারাপের আধিক্য থাকে, তাকে বোঝাতে হবে যে বাবার অনুমতি লাগবে। একই সঙ্গে এতে করে সে ছোট বয়সেই পারিবারিক চেইন অব কমান্ডের একটা শিক্ষা পেয়ে যাবে।

৬. সন্তানকে লেখাপড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝান। ভালোভাবে লেখাপড়া করলে জীবনে কি কি করা সম্ভব, তার একটা রূপরেখা তার মনের মধ্যে গেঁথে দিন। আপনার সন্তান নিজের মত করেই নিজের চলার পথ তৈরি করে নেবে। আপনাকে বেশি কিছু বলে দিতে হবে না।

৭. আপনার অর্থ-বিত্ত আছে। এর মানে এই নয় যে, সন্তান যা চাইবে, কোন কিছু বিবেচনা না করেই তাকে কিনে দিতে হবে। প্রতিদিন বাড়িতে আসার সময় বাচ্চার জন্য একই জিনিস কিনে আনছেন। প্রয়োজন নেই, তবু আনছেন। সন্তানেরও নিত্য-নতুন বায়না শুরু হচ্ছে। 

বাবা-মা কিনে দিচ্ছে। মায়েরা চাকরি করলে কোন কথাই নেই। আর যদি মায়েরা চাকরি না করেন, তবে মায়েরা বাবাদের ফোন করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাদের সন্তানদের নিত্য-নতুন বায়নার কথা। কিন্তু অহেতুক উপহারের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ পায় না। এতে করে আপনি আপনার সন্তানদের লোভী করে গড়ে তুলছেন।

৮. সন্তানের বেডরুম বাবা-মায়ের রুমের পাশেই রাখতে হবে। ব্যতিক্রম কিছু কারণ ছাড়া সন্তান যেন রুমের দরজা না লাগিয়ে রাখে, সেদিকে কড়াকড়িভাবে খেয়াল রাখতে হবে। একবার যদি এই বদঅভ্যাস তৈরি করে ফেলে, তবে পরবর্তীতে মেরে পরিবর্তন করতে পারবেন না।

৯. পরিবারে চেইন অব কমান্ড অত্যন্ত জরুরি। যে যার মত চলবে, সেটা পরিবারের ঐতিহ্য হতে পারে না। পরিবারের বড় সন্তান যদি বাবা-মায়ের কথা না শোনে, তবে তার প্রভাব পরবর্তী সন্তানদের উপরও পড়ে। পরিবারে অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকতে হবে।

১০. বাবা-মা তাদের সন্তানদের অবশ্যই স্নেহ করবে। তবে অতিরিক্ত আদর স্নেহ সন্তানকে পরনির্ভরশীল ও আত্মশক্তিহীন করে তোলে, যা মনুষ্যত্ব বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই অতিরিক্ত স্নেহ ভালোবাসা যেন সন্তানের অঙ্গলের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

১১. সন্তান ছোট থাকতেই খেয়াল রাখুন কার সঙ্গে সে চলাফেরা করে। একবার সঙ্গ দোষে জড়িয়ে পড়লে, তাকে ফেরাতে পারবেন না। বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের ভালো খারাপের পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়া। একই সঙ্গে সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেয়া।

বাবা-মা'র কাছে সন্তান থেকে আপন কেউ নেই। সময় থাকতে সতর্ক হোন। সন্তানদের সময় দিন। তাদের ভালো মন্দের পার্থক্য বোঝান। আপনাদের টাকা-পয়সা আছে বলেই অহেতুক বিলাসিতার মধ্যে তাদের জীবনকে ঠেলে দিয়েন না। এতে করে সন্তান বাস্তবতা বিবর্জিত হবে। প্রতিটি পরিবারের চেইন অব কমান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা প্রতিটা পরিবারে থাকা উচিত। আর সন্তান যদি প্রকৃত মানুষ হয়, সেটা বাবা-মায়ের জন্যই সর্বপ্রথম আনন্দের বিসয়। একইভাবে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

লেখক: উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।



খেলাধুলার সকল খবর »

ইসলাম


দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ‘আল্লাহ’ লেখা কাগজ সংরক্ষণই করছেন এই বৃদ্ধ

দীর্ঘ-৫০-বছর-ধরে-‘আল্লাহ’-লেখা-কাগজ-সংরক্ষণই-করছেন-এই-বৃদ্ধ

মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি সুখী মানুষ: মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা

মুসলমানরাই-সবচেয়ে-বেশি-সুখী-মানুষ-মনোবিজ্ঞানীদের-গবেষণা

কোরানের যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে বেশি ইমপ্রেসড করে সেটি হলো 'মৌমাছি' সংক্রান্ত আয়াতগুলি

কোরানের-যে-জিনিসটা-আমাকে-সবচেয়ে-বেশি-ইমপ্রেসড-করে-সেটি-হলো--মৌমাছি--সংক্রান্ত-আয়াতগুলি ইসলাম সকল খবর »

এক্সক্লুসিভ নিউজ


ফেসবুকে ঝড় তুলছে হবিগঞ্জের শিক্ষিত গরু!

ফেসবুকে-ঝড়-তুলছে-হবিগঞ্জের-শিক্ষিত-গরু-

একনাগাড়ে হাঁচি, ব্যবহার করুন ঘরোয়া এই টোটকা

একনাগাড়ে-হাঁচি-ব্যবহার-করুন-ঘরোয়া-এই-টোটকা

মাত্র ২০ বছর বয়সেই এই ছেলের আয় বছরে ২০ কোটি! জানেন কীভাবে?

মাত্র-২০-বছর-বয়সেই-এই-ছেলের-আয়-বছরে-২০-কোটি--জানেন-কীভাবে- এক্সক্লুসিভ সকল খবর »

সর্বাধিক পঠিত


সাকিবকে আমন্ত্রণ জানালো আইসিসি

বাংলাদেশের স্কুলে পড়াশোনা করেছেন মেসি!

পুরষ্কার নিতে এসে উইলিয়ামসনের কাছে ক্ষমা চেয়ে যা বললেন বেন স্টোকস

একটি কারণেই টুর্ণামেন্ট সেরার পুরষ্কার দেওয়া হলো না সাকিবকে

পাঠকই লেখক


কলাগাছের ভেলায় চড়ে বিয়ে করতে কনের বাড়িতে এলেন বর

কলাগাছের-ভেলায়-চড়ে-বিয়ে-করতে-কনের-বাড়িতে-এলেন-বর

এক প্যাকেট আঙুর, দাম ১১ লাখ টাকা!

এক-প্যাকেট-আঙুর-দাম-১১-লাখ-টাকা-

ছাত্রজীবনের দেনা শোধ করতে ৩০ বছর পর ভারতে আসলেন কেনিয়ার সাংসদ

ছাত্রজীবনের-দেনা-শোধ-করতে-৩০-বছর-পর-ভারতে-আসলেন-কেনিয়ার-সাংসদ পাঠকই সকল খবর »

জেলার খবর


ঢাকা ফরিদপুর
গাজীপুর গোপালগঞ্জ
জামালপুর কিশোরগঞ্জ
মাদারীপুর মানিকগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ ময়মনসিংহ
নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী
নেত্রকোনা রাজবাড়ী
শরীয়তপুর শেরপুর
টাঙ্গাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কুমিল্লা চাঁদপুর
লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী
ফেনী চট্টগ্রাম
খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি
বান্দরবান কক্সবাজার
বরগুনা বরিশাল
ভোলা ঝালকাঠি
পটুয়াখালী পিরোজপুর
বাগেরহাট চুয়াডাঙ্গা
যশোর ঝিনাইদহ
খুলনা মেহেরপুর
নড়াইল নওগাঁ
নাটোর গাইবান্ধা
রংপুর সিলেট
মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ
নীলফামারী দিনাজপুর
কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট
পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁ
সুনামগঞ্জ কুষ্টিয়া
মাগুরা সাতক্ষীরা
বগুড়া জয়পুরহাট
চাঁপাই নবাবগঞ্জ পাবনা
রাজশাহী সিরাজগঞ্জ