রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ০৮:৪৭:০৩

এবার যে অভিনব উপায়ে বাংলাদেশে ঢুকছে ভারতীয় গরু-মহিষ!

এবার যে অভিনব উপায়ে বাংলাদেশে ঢুকছে ভারতীয় গরু-মহিষ!

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : রাত নামলেই কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষের চালান ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। বিভিন্ন বাজারের রশিদ দিয়ে এসব পশুকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। পরে এগুলো দেশি পশু হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন হাটে। 

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রশিদ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই এই চোরাচালান চলছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এ ধরনের চালানের পরিমাণ আরও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে এসব ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সিলেটের সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকারে ভারত থেকে একের পর এক গরু আসার বিষয়টি যেন এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। সিলেট অঞ্চলের ৪টি সীমান্তপথে রাত গভীর হলেই এমন গরু-মহিষের চালান চোখে পড়ে সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের। স্থানীয়দের দাবি, নানা মহলকে হাত করেই বিভিন্ন বাজারের রশিদ দিয়ে বৈধতা মিলছে ভারতীয় পশুর, পরে পৌঁছে যাচ্ছে নানা গন্তব্যে।

 গ্রামবাসীরা জানান, বেশিরভাগ গরুই ভারতের। ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করলে কী হবে? নিজেরাই তো লস করতে চাইবে না। বাজার থেকে রশিদ নিয়ে টাকা দিয়ে লাইন করে এসব গরু আনা হয়। প্রশাসন ধরছে না, বন্ধও করছে না। এই গরুর পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যও আসে। সীমান্ত দিয়ে গরু আনার পর সেগুলো অনেক সময় কম দামে বিক্রি করা হয়। পরে এসব গরুর রশিদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে বৈধতা দেয়া হয়। রশিদ দেখালেই গরু বৈধ হয়ে যায়। এতে বড় একটা চক্র জড়িত। প্রশাসনের লোকজনও এতে ম্যানেজ থাকে।

তবে পশু বোঝাই গাড়িগুলোতে থাকা ব্যক্তিরা গ্রামবাসীর এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, এসব গরু দেশের ভেতরের বিভিন্ন বাজার থেকেই কেনা হয় এবং রশিদের মাধ্যমেই পরিবহন করা হয়।
 
এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে আনা গরুগুলো যাচাই-বাছাই করে দাগবিহীনগুলো বাজারে তোলা হচ্ছে। তুলনামূলক ছোট ও কম দামের এসব পশু বেশি বিক্রি হওয়ায় দেশি বড় গরু অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে।
 
এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা। তাদের দাবি, বিদেশি পশুর অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ দেশি খামারিদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
 
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম বেড়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না মিললেও বিজিবি বিভিন্ন সময় এসব সীমান্ত পথে বড় চালান আটক করেছে বলে জানা গেছে।
 
আর পুলিশ জানিয়েছে, চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার করা হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, ঈদ ও বাজারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে। চোরাচালান ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় ৮০০ সদস্যের একটি ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান নিয়েও কাজ চলছে।
 
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু অবাধে প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশি খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে