এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফ করেন। এতে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ১১টায় রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কাজে ইউনুছ পাটওয়ারী বাড়িতে যান। তখন স্থানীয় নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) ওই নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং হেনস্থা করেন।
তখন একজন নারী কর্মী তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনকে এ ঘটনা জানান। জসিম উদ্দিন ঘটনা শুনে মোবাইফোনে রুবেলকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে খুব খারাপ ভাষায় গালাগাল করে। পরে জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে রুবেল তার সঙ্গে হাতাহাতি ও আক্রমণ করে। এ ঘটনা শুনে তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।
কিন্তু এরমধ্যেই বিএনপির আরও নেতাকর্মীরা বাজরে সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে আরও আক্রোমণাত্নক হয়ে উঠেন। আমি ঘটনা শুনে আমাদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে আসতে বলি।
আমাদের নেতাকর্মীরা বাজার থেকে চলে আসতে শুরু করলে পেছন থেকে হঠাৎ তারা আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় তারা আমাদের আনুমানিক ১৫ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তারা এখন লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামে তারা জামায়াতের সহায়তায় মহিলা লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে লালমোহনের স্বভাবিক পরিস্থিতিকে খারাপ করার লক্ষ্যে দুপুরের দিকে মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায়। আমাদের পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কেউ কোনো মাথা ঘামায়নি।
পরে সন্ধ্যায় লালমোহন থেকে আওয়ামী ও জামায়াতের ক্যাডার নিয়ে আমাদের যুবদলের সভাপতি জসিম ও তার ভাই আলমগীর, রুহুল আমি, নুরনবীসহ ১২-১৫ জনের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা লালমোহনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অবনতি করতে চাচ্ছে যাতে নির্বাচন বানচাল হয়। এ ঘটনার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি এবং একইসঙ্গে এ নিন্দনীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের দাওয়াতী কাজের ব্যগাত নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর আমরা জানার পর ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়।
এরপরই বিএনপির নেতাকর্মীরাও একত্রিত হয়। রায়চাঁদ বাজারে রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আমার জানামতে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ভর্তি হয় এদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। রায়চাঁদ বাজারের আজকের ঘটনার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে রয়েছি।