মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫৭:৫৭

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, হাসপাতালে গুরুতর আহত ৮ জন

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, হাসপাতালে গুরুতর আহত ৮ জন

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে জামায়াতের ৫ জন ও বিএনপির ৪ জন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা-২ আসনের দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিরহাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতের ৫ জনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপির ৩ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় একে অপরকে দুষছে দুই দলের নেতাকর্মীরা।

জামায়াতের আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মো. রাসেল, মো.নাঈম, মো.বিল্লাল, মো.মিজান ও মো. সিফাত। অন্যদিকে বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছেন- রাসেল (২৬),মিজান (৩৫) রাকিব (২৭) রিয়াজ (২৭)। তাদের সকলের বাড়ি একই গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জামায়াতের ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের কর্মী সমর্থকেরা অবস্থান করছিল। দুই দলের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে আসলে তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তারা উভয় দলের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ বিষয়ে দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা-রড নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের হামলায় আমাদের মোট ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, গুরুতর আহত ৫ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সাজু অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা প্রচারণার নামে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের গুরুতর আহত ৩ কর্মী স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

দৌলতখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম শিকদার বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরিস্থিতি বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাইনি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি  সকালে একই আসনের বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে উভয় দলের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে