সোমবার, ০১ মে, ২০১৭, ০৭:৫৪:১৬

চট্টগ্রামে হাসিনার গাড়িবহরে গুলির নির্দেশ রকিবুলের: আদালতে দুজনের সাক্ষ্য

চট্টগ্রামে হাসিনার গাড়িবহরে গুলির নির্দেশ রকিবুলের: আদালতে দুজনের সাক্ষ্য

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন নগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদা। তাঁর নির্দেশ পেয়েই পুলিশ সদস্যরা শেখ হাসিনার গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুই সাক্ষী।

অশোক বিশ্বাস ও আবু ছৈয়দ নামের এ দুই সাক্ষী গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রুহুল আমিনের আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জেরা করেন। আদালত আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

আদালতে দুজনের সাক্ষ্য-জেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিতে যান আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। লালদীঘির পারে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় তাঁর গাড়িবহরে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়।

ওই দিনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক মামলা হয়নি। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদী হয়ে নগর পুলিশের তখনকার কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। ১৯৯৭ সালে তদন্ত প্রতিবেদন এবং ১৯৯৮ সালে অধিকতর তদন্তে কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদাসহ আট পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। অন্য আসামিরা হলেন কোতোয়ালি জোনের প্যাট্রল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে সি মণ্ডল, পুলিশ কনস্টেবল আব্দুস সালাম, মুশফিকুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দীন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। ২০০০ সালের ৯ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ওই দিনের ঘটনার সাক্ষী অশোক বিশ্বাসের ভাই সিটি কলেজের ছাত্র স্বপন বিশ্বাস পুলিশের গুলিতে মারা যান। অন্য সাক্ষী আবু ছৈয়দ ছিলেন কলেজ শিক্ষক। ঘটনার দিন পুলিশের পিটুনিতে তিনি আহত হয়েছিলেন।

গতকাল জবানবন্দিতে অশোক বিশ্বাস আদালতকে জানান, নগরের জামালখান এলাকায় তাঁর বাসা ছিল। ওই দিন সকাল ১১টায় তাঁর ভাই স্বপন বিশ্বাস বাসা থেকে শেখ হাসিনার জনসভায় যাওয়ার কথা বলে বের হন। দুপুর ২টার সময় তিনি জানতে পারেন শেখ হাসিনার জনসভায় পুলিশ অনেককে গুলি করেছে। ঘটনা শুনে তিনি ভাইয়ের সন্ধান শুরু করেন। এ সময় আত্মীয়স্বজনের বাসায়ও খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকাল ১০টায় তিনি হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। কিন্তু ওই সময় তাঁকে ভাইয়ের মরদেহ দেওয়া হয়নি। পরে বিকেলে মরদেহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে বলুয়ারদীঘি শ্মশানে দাহ করা হয়। তিনি বলেন, কমিশনার রকিবুলের নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছিল।

এরপর আদালতে সাক্ষ্য দেন আবু ছৈয়দ। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি কবিরহাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ওই দিন দুপুরে লালদীঘি এলাকায় শেখ হাসিনার জনসভায় যাওয়ার জন্য বের হন। কয়েকজনের সঙ্গে তিনি নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন। দুপুর ১টার দিকে শুনতে পান শেখ হাসিনার গাড়িবহর নিউ মার্কেট পার হয়েছে। পরে তিনিও হেঁটে লালদীঘির দিকে যেতে শুরু করেন। এর মধ্যে জিপিওর সামনে পৌঁছার পর প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ পান। এ সময় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তিনি সেখান থেকে আবার নিউ মার্কেট এলাকায় চলে আসেন।

আবু ছৈয়দ বলেন, নিউ মার্কেট থেকে তিনি সাইকেল মার্কেটের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের পিটুনির শিকার হন। পিটুনিতে তাঁর হাতের হাড় ভেঙে যায়। ওই দিন মির্জা রকিবুলের নির্দেশে ২০-২৫ জনকে হত্যা করা হয়। পরে তিনি ২৪ জন নিহত ও অন্তত দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে খবর শুনেছেন।
এমটিনিউজ২৪ডটকম/এইচএস/কেএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে