এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : খুলনার বাজারে প্রায় এক মাস ধরে বেড়েছে মাছের দাম। অন্যান্য শাক সবজি ও মাংসের দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। কিন্তু মাছের দামে ঊর্ধ্বগতি থাকায় ক্রেতাদের অভিযোগের শেষ নেই।
রোববার (২১ জুন) সকালে খুলনার রুপসার মাছ বাজার, মিস্ত্রিপাড়া বাজার এবং গল্লামারি বাজার ঘুরে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।
মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি রুই ২৫০-২৮০, কাতল ২৪০-২৫০, ভেটকি ৪০০-৪৫০, পাবদা ৩৫০-৪০০, ছোট চিংড়ি ৬৫০-৮০০, টেংরা ৫০০-৭০০, টাকি ২২০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া ও পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা কেজিতে, ট্যাংরা ৬০০-৭০০ টাকা, রুপচাঁদা মাছ ৪০০-৫০০ টাকা এবং দেশি বড় পুটি মাছ ১৫০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে সবজি বাজারে বেগুন ৪০-৫০, পটোল ৪০-৫০, কুশি ৬০, ঢ্যাঁড়স ৩০, কাঁচামরিচ ৮০-১০০, শসা ৬০, পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ৪০, আলু ২৫, দেশি পেঁয়াজ ৩০-৪০ এবং রসুন ৭০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।
মুরগির মধ্যে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬০-১৭০, সোনালি ২৭০-২৮০ এবং লেয়ার ২৮০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রুপসা মাছ বাজারের মোকামের ব্যবসায়ী দবির হোসেন বলেন, আমাদের পাকা হিসাবে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। এজন্য খুচরা বিক্রেতাদেরও বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় এবং মাছের ফিডের দাম বেশি হওয়াতে ঘেরের মাছের দাম অনেকটা বেড়েছে। মাছ বাজারেও ক্রেতা অনেক কম।
নতুন বাজারের মাছ বিক্রেতা কারিমুল হক বলেন, আড়তদাররা বাড়তি দামে মাছ বিক্রি করছে। মূলত ঘেরের মাছের দাম অনেক বেড়েছে। বাজারে ক্রেতাও অনেক কম। বেশি মাছ আনলে দামের কারণে বিক্রিও হবে না। অনেক মাছ নষ্টও হয়ে যেতে পারে।
অন্য একজন বিক্রেতা রাসেল শেখ বলেন, মোকামে মাছ নেই বললেই চলে। বেশি দামে মাছ কিনলে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এক কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি করলে সব মিলিয়ে ৩০-৪০ টাকা লাভ হয়। বড় মাছতো বিক্রি কমেই গেছে।
মিস্ত্রিপাড়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জাবেদ মোল্যা বলেন, বাজারে এখন সবজি আছে। সব সবজির দাম কম আছে। কিছু কিছু সবজির দাম বারো মাস বেশি থাকে। তবে সব সবজির দাম তুলনামূলক কম।
নতুন বাজারে আসা ক্রেতা সবজেল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবার মাছের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সে মাছের দামও বাড়তি। ছোট আকারের রুই-কাতলা ২০০ টাকার নিচে নেই। আমাদের সব সময় দাম নিয়ে চাপে থাকতে হয়। মাছের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
অন্য একজন ক্রেতা হেলেনা খাতুন বলেন, মাছ মাংসের বাজার এমনিতেই চড়া। তার ওপর মাংসের দাম কমলেও মাছের দাম বাড়তি। সবজির দাম কম। কিন্তু ঘুরে ফিরে মাছ কিনতে গিয়ে খরচ আবার সমান সমান হয়ে যায়। মাংস কিংবা সবজির দাম কমেও তো লাভ নেই।