বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১, ০৯:৩৩:১৯

লম্পটের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলেন স্ত্রী, ঘটনা শুনেই স্বামীর মৃত্যু

লম্পটের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলেন স্ত্রী, ঘটনা শুনেই স্বামীর মৃত্যু

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের উলিপুরে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রীর ওপর এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সালিশ বৈঠকের আগের দিন নির্যাতিতার স্বামী নুরুল হক (মুন্সি) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন চর গুজিমারী গ্রামে।

সরেজমিনে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২২ মার্চ (সোমবার) সকাল ৯টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের সীমানা লাগোয়া দুর্গম চরাঞ্চলের ওই বৃদ্ধা নদীতে গোসল করতে যান। এ সময় তাকে একা পেয়ে প্রতিবেশী (মৃত) মজা শেখের পুত্র চার সন্তনের জনক মুনসুর আলী (৬২) (সম্পর্কে জামাই) জোরপূর্বক জাপটে ধরে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ওই বৃদ্ধা দৌড়ে বাড়িতে এসে তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি খুলে বলে। এ ঘটনার পর মুনসুর আলী গা ঢাকা দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মাতব্বররা আপস মীমাংসার চেষ্টা চালায়।

আজ বুধবার (৩১ মার্চ) বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন মাতব্বররা। এদিকে স্ত্রীর উপর এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি বৃদ্ধার স্বামী নুরুল মুন্সি। এ ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি। এরই এক পর্যায়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, এ ঘটনার পর থেকে নুরুল হক অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। স্ত্রীর এমন ঘটনায় বৈঠক বসার কথায় বিব্রত হন তিনি। মিটিংয়ে এসব কথা শোনার আগে আল্লাহ যেন তার মরণ দেন, এমন কথা বরাবরের মত বলে আসছিলেন নুরুল মুন্সি। স্ত্রীর উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় মানষিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সালিশ বৈঠকের আগেই গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফজরের নামাজরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে আনা হয় তাকে। এর কিছুক্ষণ পরেই মারা যান তিনি। 

অভিযোগ রয়েছে, মুনসুর আলী এর আগেও এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। সে সময় স্থানীয় একটি মহলকে টাকার বিনিময় ম্যানেজ করে ছাড়া পান মুনসুর।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্ত্রীর কাছে এ ঘটনা শোনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নুরুল মুন্সি। সালিশ বৈঠকে বসতে চাইছিলেন না তিনি। শবেবরাতের রাতে মসজিদের মুসল্লিদের কাছে বৈঠকে স্ত্রীর এসব কথা শোনার আগে আল্লাহ যেন তার মৃত্যু দেয়, এমন দোয়া চাইছিলেন সবার কাছে। ঘটনার পর থেকে মুনসুর পলাতক রয়েছে, আমরা তাকে উদ্ধারের জন্য তার পরিবারের লোকজনকে বারবার চাপ দিয়ে আসছি।

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এমটিনিউজ২৪.কম এর খবর পেতে Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, এমটিনিউজ২৪ টুইটার , এমটিনিউজ২৪ ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে