বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৬:৫০

সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন

সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : নীলফামারীর ডিমলায় বুড়ি তিস্তা জলাধার খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড -এর বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে একটি আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিমলা উপজেলার কুটিরডাঙ্গা এবং জলঢাকা উপজেলার বড়পুল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী কর্তৃপক্ষ খননকাজ শুরু করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হলেও পরে ক্ষুব্ধ জনতা আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তিন ফসলি জমিতে খননকাজ শুরু করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে তারা জানান।

স্থানীয় কৃষক রমজান আলী বলেন, আমাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি, কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে মেশিন এনে জমি খনন করা হচ্ছে। আমরা কোথায় যাব?

আনসার ক্যাম্পে কর্মরত সদস্য মো. এনামুল হক জানান, হামলাকারীরা আনসার সদস্যদের থাকার কক্ষ, অফিস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় ক্যাম্পে সংরক্ষিত রেশন সামগ্রী, আনসার সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করা হয়। পাশাপাশি আনসার বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলিও ছিনতাই করা হয়েছে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, এ হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার এবং নদী খননে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিভিএম) বলেন, আনসার সদস্যদের ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাইকৃত গুলি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, দেশে রাষ্ট্রীয় শোক চলমান থাকায় আগামী তিন দিনের জন্য খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন কাজ শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে