রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৬, ০২:৪৯:৪০

নার্সিং হোস্টেলে ফাটল, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

নার্সিং হোস্টেলে ফাটল, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

সিলেট :  অজানা আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছিলেন না ছাত্রীরা। উপর থেকে খসে পড়ছিল পলেস্তরা। দেওয়ালের দেবে যাওয়া অংশ চুইয়ে চুইয়ে ঢুকছিল পানি। ফাটলগুলো ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করেছিল। এই অবস্থায় ভূমিকম্পের পরও দুই দিন গাদাগাদি করে বাস করছিলেন প্রায় পৌন ৪শ’ শিক্ষার্থী। কিন্তু শনিবার আর পারলেন না। সকালের ঝড়ের সময় ভবনটি নড়বড় করছিল। এতে করে কিছুটা কাঁপুনিও দেখা দেয়। এ কারণে সকালের দিকে আতঙ্কগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করেন কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। কর্তৃপক্ষ এসে পরিস্থিতি দেখে আতঙ্ক কাটাতে ভবনটিকে আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দুপুরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেন। আর এই নির্দেশে বাড়ে ভোগান্তি।

গতকাল সিলেট নার্সিং হোস্টেলে মালামাল সরায়ে দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন ছাত্রীরা। এর মধ্যে নার্সিং কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের ছুটি দেয়া হয়। তারা বাড়ি চলে গেছে। কিন্তু পরীক্ষা থাকার কারণে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা যেতে পারেননি। তাদের কলেজ অডিটোরিয়াম, বিভিন্ন ক্লাসরুম ও অন্য ছাত্রাবাসে স্থানান্তর করা হয়। সিলেট নাসির্ং হোস্টেলের আতঙ্ক শুরু হয় বুধবার সন্ধ্যা থেকে। ওই দিনের ভূমিকম্পে গোটা ভবনই দুলতে থাকে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। আর আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এর মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীরা ফের ভবনে উঠেন। এ সময় তারা ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। একই সঙ্গে ভবনের গ্রিলগুলোও ফাঁকা হয়ে পড়ে। বিষয়টি তারা কলেজ প্রিন্সিপালকে অবগত করেন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর থেকে রীতিমত আতঙ্ক নিয়েই তারা বসবাস করছিলেন। কিন্তু ভূমিকম্পের পর তারা দেখেন যেসব স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে সেগুলো ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ভবনটি দেবে গেছে অনেকখানি। এ কারণে চুইয়ে চুইয়ে ঢুকছে পানিও। এ ছাড়া গ্রিলগুলোও বাঁকা হয়ে গেছে। এদিকে, শনিবার সকালে সিলেটে কালবৈশাখী ঝড় হয়। ওই ঝড়ের সময় ভবনটি দুলছিল। এতে করে আতঙ্ক দেখা দেয়। সকালে বিষয়টি তারা কলেজের প্রিন্সিপালকে অবগত করেন। প্রিন্সিপাল স্বপ্না চক্রবর্তী বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার সবুর মিয়াকে অবগত করেন। তারা এসে ভবনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ভবনে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েই তারা শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেন।

দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ স্বপ্না চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত নিয়েই শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়া হয়েছে। তারা বাড়ি চলে গেছে। আর অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পরে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করা হবে। নার্সিং কলেজ সূত্র জানিয়েছে, ওই ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৮২ সালে। চারতলা বিশিষ্ট ওই ভবনে মোট ৪টি ব্লক রয়েছে। ওই চারটি ব্লকে ১৫০ জন করে শিক্ষার্থী থাকার কথা। কিন্তু সেখানে বসবাস করছে প্রায় ৩৭৫ জন শিক্ষার্থী। তারা অনেকটা গাদাগাদি করেই বসবাস করেন। গতকাল হলত্যাগের নির্দেশ দেয়ার পর ভবন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বাড়ির পথে রওনা দিলেও অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তাদের মধ্যে নার্সিং কলেজ অডিটোরিয়ামে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে স্থান দেয়া হয়। আর বাকিদের বিভিন্ন ক্লাসরুম ও ছাত্রাবাসে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজে নিজেই জিনিসপত্র কাঁধে করে নতুন আশ্রয়স্থলে চলে যান। তবে, বেলা দেড়টা হতে চললেও তাদের মুখে জুটেনি খাদ্য। চরম অনিশ্চয়তার মধ্য পড়ে যাওয়ায় আবাসন নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা রয়েই গেলো। আর সেটি কবে নাগাদ শেষ হবে সেটিও তারা জানেনা।

এদিকে, দুপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবন পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব।

তিনি জানিয়েছেন, ভবনটি খালি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই হবে। সিটি করপোরেশনের সহায়তা চাওয়া হলে আন্তরিকভাবে সেটি করা হবে বলে জানান তিনি।-এম.জমিন
১৭এপ্রিল২০১৬/এমটিনিউজ২৪.কম/এএম

 

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে