সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৬:১৮

৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে, বাবার আত্মহত্যা

৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে, বাবার আত্মহত্যা

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ঠাকুরগাঁওয়ে এক মুদি ব্যবসায়ীর ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের পর ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে সাইফুল। দাবি না মানায় সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে। প্রভাব খাটিয়ে এলাকা ছাড়া করেছিল ব্যবসায়ীর পরিবারটিকে। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও স্বজনদের।

 মেয়ের বদনাম ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া ওই ব্যবসায়ীর নাম আবুল কাসেম (৪২)। তিনি উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের কুসমতদ্দিনের ছেলে।

 অভিযোগ ওঠা সাইফুল ইসলাম একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং তার বাড়িতে পূর্বের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে সাইফুল।
 
জানা গেছে, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার সময় তার মুখ চেপে ধরে অটোতে তুলে নিয়ে যায় সাইফুল ইসলাম। ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে জোর করে তাকে কাগজে সই করতে বলেন। রাজি না হলে বাবাকে বাজার থেকে যাওয়ার সময় এবং ছোট ভাইকে মাদ্রাসা থেকে ফেরার সময় মেরে ফেলার ভয় দেখান সাইফুল। ভয়ে কাগজে স্বাক্ষর করেন ওই স্কুলছাত্রী। এরপর তাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়।
 
গত ১ জুলাই বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাইফুল ইসলাম মুদি ব্যবসায়ীকে তার মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যেতে বলেন এবং সাথে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। বিয়ের এ দাবি ও টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ওইদিন বিকালে ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনেই তাকে মারধর করেন সাইফুল ও তার লোকজন।
 
ব্যবসায়ীর স্ত্রী লাবনী আক্তার জানান, 'সাইফুল ও তার লোকজনের ভয়ে আমরা ৪ দিন ধরে ভগ্নিপতির বাড়িতে ছিলাম। বার বার ফোনে হুমকি দিচ্ছিল সাইফুল। মেয়েও টাকা চাচ্ছিল। সকালে আমার স্বামী বাড়িতে আসেন, তখন আমরা কেউ ছিলাম না। এসে দেখি দরজা বন্ধ, দরজা ভেঙ্গে দেখি তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
 
ব্যবসায়ীর ভাই আবুল কালাম জানান, 'ভয় ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা সাইফুলের বিচার চাই। পুরো গ্রামের সামনে আমার ভাইকে অপমানিত করাসহ  মারধর করেছে সাইফুল।
 
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে সাইফুল ইসলামকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী রুবা আক্তার বলেন, 'সাইফুল বাড়িতে নেই।' তিনি যতদূর জানেন তার স্বামী ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি।
 
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়ীর মেয়ের সাথে প্রতিবেশীদের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবার যদি আত্মহত্যা প্ররোচণার মামলা করে, পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে