আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিটলার যেমন ৩০ লাখ ইহুদীদের হত্যা করেছিলেন ঠিক তেমনি এখানে [ফিলিপাইন] মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ। ওদের সব কটাকে মেরে ফেলতে পারলে আমি খুশি হব। জার্মানির জন্য যেমন হিটলার ছিলেন, তেমনি ফিলিপাইনের জন্য আমি রয়েছি।
ঠিক এমনি মন্তব্য করে ইহুদিদের রোষানলে পড়েছেন ফিলিপাইনের ‘বন্দুকভক্ত প্রেসিডেন্ট’ রদ্রিগো দুয়ার্তে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দাভাও শহরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মাদকাসক্তদের হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিটলার ৩০ লাখ ইহুদিকে নিধন করেছিলেন... এখানে [ফিলিপাইন] মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ। ওদের সব কটাকে মেরে ফেলতে পারলে আমি খুশি হব।’ তিনি বলতে চান, জার্মানির জন্য যেমন হিটলার ছিলেন, তেমনি ফিলিপাইনের জন্য তিনি রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দুয়ার্তে মাদকবিরোধী অভিযানকে হলোকস্টের (ইহুদি নিধন) সঙ্গে তুলনা করায় ইহুদি নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তার মন্তব্য অমানবিক ও ব্যাপক অপরাধযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা। ইহুদি নেতারা বলছেন, তিনি নাৎসিদের হাতে নিহতদের যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন তা ভুল।
বিশ্ব ইহুদি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড এস লাওডার বলেন, প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে যা বলেছেন তা কেবল অমানবিক নয়, এটা মানুষের জীবনের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন। বিশেষ করে একটি মহান দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য সত্যিই হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য দুতার্তেকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান লাওডার।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইহুদি সংগঠন অ্যান্টি ডিফেমেশন লিগ বলেছে, তার বক্তব্য অমানবিক ও ব্যাপক অপরাধযোগ্য। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইমন ওয়েজেনথাল সেন্টারের রাব্বি আবরাহাম বক্তব্যের জন্য হলোকস্টের শিকারদের পরিবারের কাছে দুয়ার্তেকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়েই বন্দুকভক্তির জন্য ‘সুখ্যাতি’ রয়েছে দুয়ার্তের। গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার আগে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে আসছিলেন ৭১ বছর বয়সী এ প্রেসিডেন্ট।
ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে মাদক ব্যবহারকারী ও ডিলারদের ওপর রক্তক্ষয়ী অভিযান চালাতে শুরু করেন দুয়ার্তে। অভিযানে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুয়ার্তে ঘোষিত মাদকবিরোধী অভিযানে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীই নিহত হয়েছেন ৯শর বেশি।
এইসব ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এ বিশ্ব সংস্থাটির দুই মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এ অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন।
সম্প্রতি তার ‘ডেথ স্কোয়াড’র একজন সদস্য এদগার মোতাবাতো অভিযোগ তোলেন, কেবল মাদকসেবী নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও হত্যাযজ্ঞ জারি রেখেছিলেন তিনি। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চলমান এক সিনেট শুনানিতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেন তিনি। তবে মোতাবাতো জানান, দেশের কমিশন অব হিউম্যান রাইটস ডাভাও ডেথ স্কোয়াড বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
১ অক্টোবর,২০১৬/এমটিনিউজ২৪/এআর