বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০৭:৩০:০৩

উদ্বাস্তুদের ঘরে ফেরার আহ্বান মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

উদ্বাস্তুদের ঘরে ফেরার আহ্বান মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার কারণে দেশটির অভ্যন্তরে বসবাসরত উদ্বাস্তুদের ঘরে ফেরার আহ্বান করেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং।

বৃহস্পতিবার তিনি দেশের অভ্যন্তরের উদ্বাস্তুদের এ ধরনের আহ্বান জানালেও বাংলাদেশে পালিয়ে আসা চার লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।

২৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

বৌদ্ধদের দেশ মিয়ানমারে উগ্র বৌদ্ধ এবং সেনাবাহিনীর তাণ্ডবকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত গণহত্যার উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করেছে জাতিসংঘ।

তবে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে অং সান সুচি নিন্দা জানালেও মানুষজন ঠিক কী কারণে রাখাইন ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার এ ধরনের বক্তব্যকে বিশ্বনেতারা নিন্দা জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের দাবি, মুসলিমদের হামলার শিকার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে ৩০ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। উগ্র মুসলিমরা বৌদ্ধ এবং অমুসলিমদের উপর হামলা চালানোরও দাবি তোলা হচ্ছে। অথচ মুসলিম রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে লুটপাট করেছে দেশটির সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধরা।

রোহিঙ্গাদের গণহত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন মিন অং হ্লাইং। তিনি তার বক্তব্যে একবারও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশের নাগরিক হিসেবেই শিকার করে না।

তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে গিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেছে। অথচ শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গারা সেখানে বসবাস করে আসছে।

১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার পর দেশটির পার্লামেন্টের সদস্য এমনকি মন্ত্রী পরিষদেও রোহিঙ্গারা ছিল। তবে কোনো এক অজানা কারণে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়।

মিন অং বলেন, এই অঞ্চলে আমাদের জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে। জাতীয় স্বার্থেই আমাদের উচিত এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির বাইরে সেখানে কোনো মানুষ থাকলে তাদের জন্য আমরা কিছু করতে পারি না।

অথচ অন্যান্য দেশের পাশাপাশি জাতিসংঘ, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সেনাবাহিনীকে সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অং সান সুচি শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছেন। তবে সেটা শর্ত সাপেক্ষে। অন্যদিকে মিন অং হ্লাইং সে ধরণের কোনো শব্দই উচ্চারণ করেননি। সূত্র : স্ট্রেইটস টাইমস

এমটিনিউজ/এসএস

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে