আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদে জমায়েতকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই করোনা আক্রা'ন্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। ছ'জন তেলেঙ্গানায় ও একজন জম্মু-কাশ্মীরে মারা গিয়েছেন। তামিলনাড়ুতে মৃত এক ব্যক্তির সঙ্গেও এই জমায়েতের যোগ আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থার জন্য মসজিদ কমিটিকেই দায়ী করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
কেজরিওয়াল বলেন, এই অবস্থায় ওই জমায়েতের অনুমতি দিয়ে দায়িত্বজ্ঞা'নহী'ন আচরণ করেছে মসজিদ কমিটি। ওই জমায়েতে অংশ নেওয়া ৪৪১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যেককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা খুব বড় দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। যখন গোটা বিশ্বে মানুষ মারা যাচ্ছে, সব ধরনের ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করা হয়েছে, তখন তাঁরা এই ধরনের বেআইনি কাজ করেছেন।'
গতকাল আরও ৪০০ জনের শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদেরও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, 'ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে গিয়েছেন। তাদের মধ্যে কতজন করোনা আক্রা'ন্ত এটা ভেবেই খুব ভয় হচ্ছে আমার। তাই আমি সব ধর্মীয় গুরুদের কাছে আবেদন করছি, এই মুহূর্তে এইসব জমায়েত না করার। এখন মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।'
কেজরিওয়াল আরও জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৫৪৮ জনকে মসজিদ থেকে বের করে আনা হয়েছে। আরও ১১০০ জনকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। মসজিদ কমিটির বি'রু'দ্ধে একটা এফআইআর দা'য়ের করা হয়েছে। এই জমায়েতে অংশ নেওয়া মানুষদের চি'হ্নিত করার কাজ করছে বিভিন্ন রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে এই জমায়েতে অংশ নেওয়ার পরে তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও আন্দামানে ফিরে গিয়েছেন অনেকে।
৮ থেকে ১০ মার্চ হওয়া এই জমায়েতের জন্য প্রায় ২০০০ মানুষ দিল্লির নিজামুদ্দিনে একসঙ্গে ছিলেন। তাদের মধ্যে আগেই ৪১ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তেলেঙ্গালায় ছ'জন ও জম্মু-কাশ্মীরে একজনের মৃ'ত্যু হয়েছে। আন্দামানে ফিরে যাওয়া ১০ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস ধ'রা পড়েছে। এই জমায়েত থেকে কাশ্মীরে ১০০ জনেরও বেশি ফিরে গিয়েছেন। তাদের চি'হ্নিত করাটাই সরকারের কাছে ক'ঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র : এআনএই