আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে একের পর এক রাজ্যে নির্বাচনে হেরে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বে এমনিতেই জেরবার কংগ্রেস। এবার প্রণব মুখার্জীর স্মৃতিগ্রন্থেও উঠে এলো সোনিয়া প্রতি তার ক্ষোভের প্রসঙ্গ। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হারের জন্য দায়ী খোদ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী।
'দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স'-এ লিখেছেন ভারতে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। আগামী জানুয়ারি মাসেই তার স্মৃতিগ্রন্থ প্রকাশিত হবে। বইতে প্রণব লিখেছেন, 'কংগ্রেসের অন্দরে অনেকেই মনে করতেন, ২০০৪ সালে আমি প্রধানমন্ত্রী হলে ২০১৪ সালে ওইভাবে বিপর্যয় হত না। যদিও এই মতকে আমি সমর্থন করি না, তাও বলব, আমি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক দিক দিয়ে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে দল।
একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন সোনিয়া, অন্যদিকে সংসদ থেকে দীর্ঘদিন দূরে থেকেছেন মনমোহন। যার ফলে দলের অন্য সাংসদের আলাপ-আলোচনার পরিসরই তৈরি হয়নি সেই সময়ে।' ২০০৪ সালে প্রণবই যে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, তা মোটামুটি পাকা ছিল। কিন্তু মনমোহনকেই বেছে নিয়েছিলেন সোনিয়া। ২০১৭ সালে প্রণববাবুর আগের বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে মনমোহন সিং বলেছিলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়াতে কষ্ট পেয়েছিলেন প্রণব, যা যথাযথ। ব্যথিত হওয়ার যথেষ্ট কারণও ছিল। কিন্তু উনি বরাবর আমায় সম্মান দিয়েছেন। তবে আমাদের মধ্যে আজও ভাল সম্পর্ক রয়েছে, আজীবন থাকবে।'
মনমোহন-মোদি, দুই আমলেই রাষ্ট্রপতি থেকেছেন প্রণব মুখার্জি। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তুলনা প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ''আমি মনে করি, সরকার চালানোর নৈতিক দায় প্রধানমন্ত্রীর। রাষ্ট্রের সামগ্রিক ছবিতেই প্রতিফলিত হয় প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে। অধিকাংশ সময়ে জোট-সরকার বাঁচাতেই ব্যস্ত থাকতেন মনমোহন সিং, যার সরকারি প্রভাব পড়েছে সরকারি নীতিতে। অন্যদিকে মোদি-শাসনের প্রথম দফায় সরকারের স্বৈরতন্ত্রী প্রবণতাই লক্ষ্য করা গেছে, যা সরকার, বিধানমণ্ডলী এবং বিচারবিভাগের মধ্যে তিক্ততার সম্পর্কেই স্পষ্ট।''