রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৯:৩৫:৩৭

ভারতের সাথে শত্রুতা, জনপ্রিয়তা হারিয়ে কেপি শর্মা ওলির পার্লামেন্ট ভেঙে গেল!

ভারতের সাথে শত্রুতা, জনপ্রিয়তা হারিয়ে কেপি শর্মা ওলির পার্লামেন্ট ভেঙে গেল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জরুরি বৈঠক ডেকে পার্লামেন্ট ভাঙ্গার প্রস্তাব দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নেপালের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, রোববার সকালে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হোক।

এর আগে শনিবার দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন কেপি শর্মা ওলি। এরপর এদিন সকালে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি বলেন, ''আমাদের সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এখন পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হোক।''

ওলির এক সহযোগী জানিয়েছেন, নিজ দলের সমর্থন হারানোর পর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে জনসমর্থন চাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। নেপালের সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে গড়া জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক জয় পেয়েছিলেন ওলি। কিন্তু নিজ দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টিকে এড়িয়ে অন্তরঙ্গ একটি উপদলকে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।  

ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির এক নেতা বলেছেন, ''দলের ভেতর সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন হারানো ওলি এখন দেশকে নতুন নির্বাচনের পথে ঠেলে দিতে চাইছেন।'' এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওলির কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও তার উপদেষ্টা রাজন ভট্টরাই বলেছেন, দলের ভেতর চাপে পড়েই প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধান পরিষদীয় আইনের অধ্যাদেশের বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়ছিল কেপি শর্মা ওলির ওপর। গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীকে দিয়ে তা সই করিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তা ছাড়া বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বিষ্ণু রিজাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তিনি।

সীমান্ত বিতর্ক থেকে রাম মন্দির ইস্যু, ভারতের বিরোধিতা করেছে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছিলেন কেপি শর্মা ওলি। এমন কি মানচিত্র বদলে ভারতের অংশ নেপালের অংশ করে মন্ত্রীসভায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। দু'দেশের মধ্যে সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্রকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। কেপি শর্মা ওলি দাবি করেছিলেন, তার সরকার পতনের জন্য দিল্লী ষড়যন্ত্র করছে। তবে এর কোন প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে