যেসব কারণে মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর এতো প্রভাব!

০৫:৩০:৩১ বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১

সর্বশেষ সংবাদ :

     • টিকা না নিলে হজের অনুমতি দেবে না সৌদি আরব     • বাংলাদেশ এখন মালয়েশিয়ার কাতারে, এটা আমাদের গর্ব : অর্থমন্ত্রী     • ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের সেবায় শখের গাড়িটাও বিক্রি করে দিলেন ক্রিকেটার শাহাদাত     • কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ক্ষুব্ধ ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া     • উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী      • সৌদি যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা     • বিজেপিতে যোগ দেয়ায় শ্রাবন্তীকে কটাক্ষ করলেন অঙ্কুশ!     • ভারত ও পাকিস্তানকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই : মালালা     • 'পুলিশ অকারণে হয়রানি বা টাকা দাবি করলে আমাকে ফোন করে জানাবেন'     • ৭ মার্চ ব্রিগেডের সভায় মোদির সঙ্গে থাকবেন সৌরভ-মিঠুন-প্রসেনজিৎ!

বৃহস্পতিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ০৬:৪৯:২৩

যেসব কারণে মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর এতো প্রভাব!

যেসব কারণে মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর এতো প্রভাব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মিয়ানমারেই একমাত্র দেশ যে দেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সামরিক বাহিনীর শাসন চলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বার্মা নামে পরিচিত এ দেশটি ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।  কিন্তু দেশটির গত ৭৩ বছরের ইতিহাসে সামরিক শাসন চলেছে ৫০ বছরের বেশি সময়। কেন এত দীর্ঘ সময় সামরিক বলয়ে রয়েছে দেশটির শাসন ব্যবস্থা? 

এ নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। মিয়ানমার বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর যে বিশাল প্রভাব রয়েছে, সেটি বেশ অভাবনীয়। বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এই দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব বেশি হওয়ার পেছনে অবশ্য ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে পাঁচ বছরের জন্য অং সান সু চি-র ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) একটি বেসামরিক সরকার গঠন করলেও সেনাবাহিনীর প্রভাব থেকে সেই সরকার বা রাষ্ট্রীয় কাঠামো বেরিয়ে আসতে পারেনি। বার্মা বা মিয়ানমারের স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন জেনারেল অং সান, তিনিই দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের ছয় মাস আগে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন অং সান। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বার্মার জনগণ সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন, জনগণ মনে করতেন সেনাবাহিনীই দেশের রক্ষাকারী। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় সংঘাত। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি, দেশটিকে ঐক্যবদ্ধভাবে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী ভূমিকা রেখেছে। না হয় ভেঙে টুকরো-টুকরো হয়ে যেত। 

স্বাধীনতা লাভের পর বার্মায় একটি সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় উ নু'র নেতৃত্বে। কিন্তু সেই সরকার শুরু থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে। মিয়ানমারে তখন নানা ধরণের অস্থিরতা দেখা দেয়। জাতিগত সংঘাত, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত হয়ে পড়ে দেশটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী উ নু সেনাবাহিনীকে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান।

সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল নে উইনের নেতৃত্বে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার পরিচালিত হয়। ১৯৬০ সালের মিয়ানমার একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের পর উ নু'র নেতৃত্বে আবারও একটি বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই সরকারও চলমান অস্থিরতাগুলো সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। ওই ব্যর্থতাকে পুঁজি করেই নির্বাচনের দুই বছরের মাথায় মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। সেই থেকে বিভিন্ন উপায়ে প্রায় ৫০ বছর ধরেই চলছে মিয়ানমারের সামরিক শাসন। মিয়ানমারের সর্বশেষ সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির সেনাপ্রধান কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লোয়ি ইন্সটিটিউটের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক গবেষক অ্যারন কনেলি ২০১৭ সালে সিএনএন-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে যদি বলা হয়, দেশের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ নাকি আন্তর্জাতিক সম্মান তোমরা কোনটি চাও? তারা দেশ নিয়ন্ত্রণ করাটাকেই বেছে নেবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বেসামরিক রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা পুরোপুরি ছেড়ে দিতে মোটেও রাজী নয়। 

তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনী যতটুকু ছাড় দেওয়ার, ঠিক ততটুকুই তারা দিয়েছে ২০০৮ সালে গৃহীত সংবিধানের মাধ্যমে। এর বেশি ছাড় সেনাবাহিনী দেবে না বলে মনে করেন এই গবেষক। ২০০৮ সালের ওই সংবিধানে মিয়ানমারের সংসদে এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। শুধু আসন সংরক্ষিত রাখাই নয়, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সেনাবাহিনীর হাতে রয়েছে। এ তিনটি বিষয় হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়।

মিয়ানমারে বর্তমানে যে সংবিধান রয়েছে, সেটি বেসামরিক সরকারের ওপর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, গত ৮ নভেম্বরের সর্বশেষ নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার পর যদি অং সান সু চি'র সরকার গঠিত হতো, সেই সরকার কি সংবিধান সংশোধন করতে পারতো? তেমন একটি সম্ভাবনা কি তৈরি হয়েছিল?

বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জনাথন হেড মনে করেন, সংবিধান সংশোধন করা অং সান সু চি-র পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে সংবিধান সংশোধন করতে হলে সংসদে ৭৫ শতাংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। যেহেতু সেনাবাহিনী সংসদ সদস্যদের ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী, তাই তাদের সমর্থন ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেই ১৯৬২ সাল থেকে টানা ২০১১ সাল পর্যন্ত শক্ত হাতে সরাসরি দেশ শাসন করে। দেশটির মোট জাতীয় বাজেটের ১৪ শতাংশ ব্যয় হয় সামরিক খাতে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ২০০১ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্মার সঙ্গে জাপান এবং ভারতের সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল। তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্কে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও ১৯৮৮ সাল থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।

চীন হচ্ছে প্রথম দেশ যারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ১৯৮৮ সালে। তখন থেকে চীন এবং মিয়ানমারের মধ্যে জোরদার সম্পর্ক তৈরি হয়। এছাড়া আসিয়ান জোটে যোগদানের ফলে বার্মার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মিয়ানমারে সামরিক শাসন নিয়ে এসব দেশ কখনোই তেমন উচ্চবাচ্য করেনি।



খেলাধুলার সকল খবর »

ইসলাম


সবাই করোনা ভ্যাকসিন নিন এবং নিরাপদে থাকুন: মিজানুর রহমান আজহারী

সবাই-করোনা-ভ্যাকসিন-নিন-এবং-নিরাপদে-থাকুন-মিজানুর-রহমান-আজহারী

জুমআর নামাজ চার শ্রেণির মানুষ ছাড়া প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ

জুমআর-নামাজ-চার-শ্রেণির-মানুষ-ছাড়া-প্রত্যেক-মুসলমানের-উপর-ফরজ

গান-বাদ্য ও আতশবাজির পরিবর্তে বিয়েতে কুরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করে ব্যাপক প্রশংসিত বাবা

গান-বাদ্য-ও-আতশবাজির-পরিবর্তে-বিয়েতে-কুরআন-তেলাওয়াতের-আয়োজন-করে-ব্যাপক-প্রশংসিত-বাবা ইসলাম সকল খবর »

এক্সক্লুসিভ নিউজ


এই দুই যমজ বোনের জীবনে যা ঘটেছে তা বিশ্বে প্রথম

এই-দুই-যমজ-বোনের-জীবনে-যা-ঘটেছে-তা-বিশ্বে-প্রথম

বিয়ে দেখতে উৎসুক জনতারও ভিড়, বরের বয়স ১০৭ বছর, কনে ৯২

বিয়ে-দেখতে-উৎসুক-জনতারও-ভিড়-বরের-বয়স-১০৭-বছর-কনে-৯২

মঙ্গল থেকে তথ্য আসা শুরু, এসেছে হালকা বাতাসের শব্দ

মঙ্গল-থেকে-তথ্য-আসা-শুরু-এসেছে-হালকা-বাতাসের-শব্দ এক্সক্লুসিভ সকল খবর »

সর্বাধিক পঠিত


মাতৃভূমি ছেড়ে এখন অস্ট্রেলিয়ায় বাসচালকের চাকরি করেন বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার!

নির্মাণকাজ শেষের আগেই ১৫ কোটি টাকার সেতু ধসে পড়লো খালে!

হেরে গেলেন বউ-শাশুড়ি দু'জনই, জিতলো বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী!

শতাধিক রাষ্ট্রদূতকে মিয়ানমারে ফেরার নির্দেশ

বিচিত্র জগৎ


সৌন্দর্য বজায় রাখতে প্রতিদিন কুকুরের মূত্রপান মার্কিন তরুণীর

সৌন্দর্য-বজায়-রাখতে-প্রতিদিন-কুকুরের-মূত্রপান-মার্কিন-তরুণীর

নিজেদের জঞ্জাল ও আবর্জনা সৌরজগতে ফেলছে ভিনগ্রহের প্রাণীরা!

নিজেদের-জঞ্জাল-ও-আবর্জনা-সৌরজগতে-ফেলছে-ভিনগ্রহের-প্রাণীরা-

পৃথিবীর গতি বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টার আগেই শেষ হচ্ছে দিন!

পৃথিবীর-গতি-বাড়ছে-২৪-ঘণ্টার-আগেই-শেষ-হচ্ছে-দিন- বিচিত্র জগতের সকল খবর »

জেলার খবর


ঢাকা ফরিদপুর
গাজীপুর গোপালগঞ্জ
জামালপুর কিশোরগঞ্জ
মাদারীপুর মানিকগঞ্জ
মুন্সিগঞ্জ ময়মনসিংহ
নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী
নেত্রকোনা রাজবাড়ী
শরীয়তপুর শেরপুর
টাঙ্গাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
কুমিল্লা চাঁদপুর
লক্ষ্মীপুর নোয়াখালী
ফেনী চট্টগ্রাম
খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি
বান্দরবান কক্সবাজার
বরগুনা বরিশাল
ভোলা ঝালকাঠি
পটুয়াখালী পিরোজপুর
বাগেরহাট চুয়াডাঙ্গা
যশোর ঝিনাইদহ
খুলনা মেহেরপুর
নড়াইল নওগাঁ
নাটোর গাইবান্ধা
রংপুর সিলেট
মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ
নীলফামারী দিনাজপুর
কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট
পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁ
সুনামগঞ্জ কুষ্টিয়া
মাগুরা সাতক্ষীরা
বগুড়া জয়পুরহাট
চাঁপাই নবাবগঞ্জ পাবনা
রাজশাহী সিরাজগঞ্জ