আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয় আর্থ-সামাজিকভাবে বাংলার বাসিন্দারা মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের করুণ পরিস্থিতি। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম আমলে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের এই দুর্দশা তত্কালীন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীর আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে।
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার অন্যতম কারণ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী সাচার কমিটির রিপোর্টকে রাজনীতির ময়দানে সফলভাবে ব্যবহার করেছিলেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি। ১৬টি কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। এছাড়া আরও ৫০টি আসনে মুসলিম জনসংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার বাসিন্দা মুসলিম সম্প্রদায়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রকৃতপক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেননি বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপির তরফে এই অভিযোগও তোলা হয়েছে, মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রকৃত আর্থসামাজিক উন্নয়নের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তোষণের পথ বেছে নিয়েছেন।
এই অভিযোগের যে সারবত্তা রয়েছে এর প্রমাণ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মিম, আইএসআরএফের মতো মুসলিম সংগঠনগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতাদের একাংশ ইতিমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত দুর্গাপুজোতে ঘরে ফেরা লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিককে সহায়তা দানের পরিবর্তে মমতা দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে মোটা টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
এই বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছেন না মুসলমান নেতারা। ঘরে ফেরা বাংলার প্রবাসী শ্রমিকদের ভিতর সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যকই মুসলমান। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবেন মমতা। এদিকে রাজ্যজুড়ে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ গত ১০ বছরে সংগঠনের বিস্তার ঘটিয়েছে।
রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সঙ্ঘ একটি করে শাখা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল নেতাদের একাংশের বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা হিন্দু এবং মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের ভোটারদেরই অতীতের তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করেছে। এর ফলে বিজেপি বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে এর মাশুল গুনতে হতে পারে মমতা ব্যানার্জীকে।
এ ব্যাপারে কিছু পরিসংখ্যান পেশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৭ শতাংশ ভোট পেলেও ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ৪০ শতাংশ ভোট বেড়েছে বিজেপির। এর জেরে গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে ১৮টি আসনে বিজেপির জয়লাভ। সেইসঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠা।