আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দাদরা ও নগর হাভেলির সাংসদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ করল কংগ্রেস। তাদের দাবি, নিহত মোহন দেলকর সাহায্য চেয়ে একাধিক চিঠি লিখেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। কিন্তু তারা সকলেই এব্যাপারে উদাসীন থেকেছেন।
শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই অভিযোগ জানালেন কংগ্রেস নেতা শচীন সাওয়ান্ত। কংগ্রেস নেতার কথায়, 'আত্মহত্যার আগে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আর্তি জানিয়ে বহুবার চিঠি লিখেছিলেন উনি। বিষয়টা একজন সাংসদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। ওদের উচিত ছিল দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। তাই প্রশ্ন উঠছে, তারা কি ইচ্ছা করেই ওর চিঠিগুলিকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন?'
পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা কাঠগড়ায় তুলেছেন দাদরা ও নগর হাভেলির প্রশাসকদের দিকেও। তার দাবি, ওই সাংসদকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। শচীন সাওয়ান্তের দাবি, গত ১৮ ডিসেম্বর ও ৩১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন মোহন। পাশাপাশি ১৮ ডিসেম্বর ও ১২ জানুয়ারি অমিত শাহকেও চিঠি লিখেছিলেন। এছাড়া ওম বিড়লাকে ৩টি চিঠি লেখার পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ভূপেন্দ্র যাদবকেও চিঠি লিখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাপয়েন্টমেন্টও চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, মোহন দেলকর ৭ বারের সাংসদ। প্রতিবারই তিনি দাদরা ও নগর হাভেলি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে নির্দল হয়ে ভোটে লড়ে সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর দিন কয়েক আগে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভ হোটেলে ওঠেন তিনি। এরপর সেখান থেকেই তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পাশ থেকে উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোটও। তা হাতে পেয়ে পুলিশের অনুমান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মাত্র ৫৮ বছর বয়সি সাংসদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে হতবাক তার সহকর্মীরা। কীভাবে, কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি কেউই। এই পরিস্থিতিতে সামনে এল কংগ্রেসের এই অভিযোগ।