আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার শালতোরার চন্দনা বাউড়ির পর কলিতা মাঝি। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় ফের চমক। চার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন, মাঠে-ঘাটেও পরিশ্রমের কাজ করতে হয় গুসকার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলিতা মাঝিকে। তিনিই এবার পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী। বছর বত্রিশের কলিতা কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি তাঁকে দল প্রার্থী করতে পারে।
প্রার্থী তালিকায় নাম দেখে অনেকটা অবাকই হয়েছেন। শুক্রবার থেকেই বাড়ি প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন কলিতা। কলিতা মাঝি বলেন, ''চার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করি। সঙ্গে মাঠে-ঘাটে কাজতো আছেই। স্বামী পাইপ লাইনে কাজ করেন। আমাদের রোজগারের ওপরই সংসার। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করায় খুব ভাল লাগছে। রাজনীতি করার সাহসও বাড়ছে। আমাদের দলের কার্যকর্তারা আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। আমি ভাবতেই পারিনি আমাকে দল প্রার্থী করবে।''
শালতোরার বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউড়ির ঘরের সঙ্গে কলিতার ঘরের মিল রয়েছে। গুসকরার মাঠপুকুর পাড়ে মাটির দেওয়াল, খড়ের চাল কলিতাদের। চালের খড়ও বহু পুরনো হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে কাঠ দিয়ে উনুনে রান্না। কলিতা মাঝির স্বামী ৪২ বছরের সুব্রত মাঝি পাম্পের কাজ করেন। ছেলে ১৪ বছরের পার্থ মাঝি পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে। এছাড়া বাড়িতে রয়েছেন শ্বশুর, শাশুড়ি ও দুই দেওয়র। দেওয়ররা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
কলিতা বিজেপির গুসকরা নগর মণ্ডলের সম্পাদিকা পদে রয়েছেন। পাঁচ বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। গুসকরা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মঙ্গলকোটের কাসেমনগরে তার বাপের বাড়ি। কলিতা পড়াশুনা করেছেন চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। কীভাবে প্রচার করবেন? কলিতাদেবী বলেন, ''শুক্রবার থেকেই প্রচার শুরু করে দিয়েছি। সঙ্গে কার্যকর্তারা রয়েছেন। পাড়ায় পাড়ায়, বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি।''