আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীন ও পাকিস্তান আফগানিস্তান নিয়ে তাদের পাঁচটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। গত শনিবার চীনের চেংদু শহরে বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত তৃতীয় কৌশলগত সংলাপে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সংলাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি যৌথ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। যে পাঁচটি ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে, চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে কাজ করবে তার প্রথমটি হলো-তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার দিয়ে আফগানিস্তানকে গৃহযুদ্ধের কবল থেকে রক্ষা করা। অর্থাৎ বর্তমান আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে যে লড়াই চলছে সেটা থামানো।
দ্বিতীয়, কাবুল-তালেবান আন্তসমঝোতা ত্বরান্বিত করার ওপর মনোযোগ দেওয়া এবং আফগানিস্তানে সুদূরপ্রসারী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ তালেবান ও সরকারি বাহিনীর লোকদের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা।
তৃতীয়, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করা। অর্থাৎ আফগানিস্তানে আইএস এবং এই ধরণের অন্য যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে তাদেরকে দমন করে রাখা। কারণ, চীন মনে করে আফগানিস্তান অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে তার ধাক্কা জিনজিয়াং প্রদেশে গিয়েও লাগবে। চতুর্থ, আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করা।
সর্বশেষ ও পঞ্চম, দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। অর্থাৎ চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরে (সিপিইসি) আফগানিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া। আফগানিস্তানেও পাকিস্তানের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের পর এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ব্যর্থ হয়েছে। আবার দেশটিতে শান্তিও ফেরেনি, বরং সেখানে নিরাপত্তাজনিত এক নতুন কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি হয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিবেশী রাষ্ট্র হওয়ায় চীন ও পাকিস্তান দেশটির পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে।
দেশটিতে যে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সূচনা দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে জোরালো সহযোগিতার প্রয়োজন। তৃতীয় কৌশলগত সংলাপ শেষে চীন-পাকিস্তান একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে আফগানিস্তানের নেতৃত্বে যেকোনো শান্তি ও পুনর্গঠনমূলক প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা, তাতে সমর্থন দান ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানে মার্কিন যুদ্ধ শেষ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গত এপ্রিল মাস থেকে আফগান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে তালেবানের হামলা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তালেবানরা। তবে বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের সরকারি সেনাদের হটিয়ে ৯০ শতাংশ সীমান্ত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তালেবান। সূত্র: দ্য হিন্দু, আল জাজিরা