প্রশান্ত কিশোর একজন ভারতীয় নির্বাচনী কৌ'শলী ও রাজনীতিবিদ যিনি জনতা দল (সংযু'ক্ত) এর রাজনীতির সাথে যু'ক্ত ছিলেন। প্রশান্ত কিশোর ১৯৭৭ সালে বিহারের রথাস জেলার করানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন বক্সার জেলায় ও হায়দ্রাবাদে। হায়দ্রাবাদে প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ হলে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূ'চীতে জনস্বাস্থ্য বিশেষ'জ্ঞ হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি সেই চাকরি ছে'ড়ে দিয়ে নির্বাচন কৌ'শলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ও সিটিজে'ন্স ফর অ্যা'কাউ'ন্টে'ব'ল গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ২০১২ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি জয়লাভ করে ও নরেন্দ্র মোদি টা'না তৃতীয় বারের মত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি ২০১৪ সালে ভারতে ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে আবারো ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে তিনি "হ'র হ'র মোদি, ঘর ঘর মোদি" স্লোগান, "চায়ে পে চর্চা" ও "রান ফর ইউনিটি" প্রচা'রাভি'যান প্রব'র্তন করেন। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি জয়লাভ করে ও নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলটির নেতাদের সাথে ম'নো'মা'লি'ন্য তৈরি হয় তার।
ফলে তিনি দলটির সাথে নিজের সম্পর্ক ত্যা'গ করেন ও সে সময় তার সংস্থা সি'টিজে'ন্স ফর অ্যা'কা'উন্টে'ব'ল' গভ'র্নমে'ন্টের নাম পরিবর্তন করে ইন্ডিয়ান পলিটি'ক্যাল অ্যা'কশ'ন কমিটি রাখেন। ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জনতা দল (সংযু'ক্ত) এর পক্ষে কাজ করেন। তিনি দলটির সাথে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন। সে সময় তিনি "বিহারি বনাম বাহারি" স্লো'গা'ন প্রব'র্তন করেন ও বিহারে গেরুয়া ঝড় থা'মিয়ে দেন। নির্বাচন শেষে নীতিশ কুমার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০১৫ সালে তিনি নির্বাচন কৌ'শলী হিসেবে তানজানিয়ায় কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে তানজানিয়ার রাষ্ট্রপতি ও আইনসভা নির্বাচনে জন মাগুফুলি ও চামা চা মাপিন্দুজি দলের জন্য কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে তানজানিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জন মাগফুলি ও আইনসভা নির্বাচনে চামা চা মাপিন্দুজি দল জয়লাভ করে। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০১৬ সালে তাকে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌ'শলী হিসেবে নিযু'ক্ত করা হয়।
তিনি অমরিন্দর সিং'য়ের জন্য "পা'ঞ্জা'ব দা ক্যা'পটে'ন", "ক্যা'পটে'ন দা পাঞ্জাব" 'স্লো'গা'ন তৈরি করে দেন। নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস জয়লাভ করে ও দশ বছর পর পাঞ্জাব বিধানসভায় সংখ্যাগরি'ষ্ঠতা অর্জন করে। অমরিন্দর সিং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর আবারো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষে কাজ করেন। এই নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মত ব্য'র্থ হন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ৪০৩ টি আসনের মাঝে মাত্র ৭টি আসন লাভ করে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ও অ'ন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জগন্মোহন রে'ড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির হয়ে কাজ করেছিলেন। তিনি এবার "রা'ভালি 'জগন, কাভালি জ'গ'ন" স্লো'গা'ন প্রব'র্তন করেন। বিধানসভা নির্বাচনে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি জয়লাভ করে ও জ'গ'ন্মো'হন রে'ড্ডি অ'ন্ধ্রপ্রদে'শের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহ্ণ করেন। আর, লোকসভা নির্বাচনে অ'ন্ধ্রপ্রদেশের লোকসভা কেন্দ্রগুলোতে ও'য়াই'এস'আর কংগ্রেস পার্টি সংখ্যাগরি'ষ্ঠতা অর্জন করে।
২০২০ সালে অনুষ্ঠিত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রা'ক্কা'লে প্রশান্ত কিশোর ও তার সংস্থা আম আদমি পার্টির হয়ে কাজ করার জন্য চু'ক্তিব'দ্ধ হয়েছিল। নির্বাচনের পর টা'না তৃতীয়বারের মত আম আদমি পার্টি জয়লাভ করে ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল টা'না তৃতীয়বারের মত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। ২০১৯ সালে তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন কৌ'শলী হিসেবে নিযু'ক্ত হন। প্রশান্ত কিশোরের পরাম'র্শে দিদিকে বলো কর্মসূচী চালু হয়। এছাড়া, তার পরামর্শে "আমার গর্ব মমতা" প্রচা'রাভি'যান চা'লু করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ সরকার গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস।
তিনি গৌহাটির জাহ্নবী দা'সে'র সাথে বিবাহব'ন্ধনে আব'দ্ধ হয়েছেন। জাহ্নবী দাস পেশায় একজন ডাক্তার। প্রশান্ত-জাহ্নবীর দুইটি পুত্রসন্তান আছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জনতা দল (সংযুক্ত) এ যোগদান করেন। তিনি দলটির সহসভাপতি হিসেবে নিযু'ক্ত হন। ২০২০ সালে ২৯ জানুয়ারি দলবিরো'ধী কাজের অভিযোগে তাকে দল থেকে ব'হি'ষ্কা'র করা হয়। তিনি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক পরাম'র্শদাতা বা কুশলী নন। এমনকি তার দৈনন্দিন কর্মকা'ণ্ডেও সাধারণ'ত্বের ছা'প নেই। তাঁর বক্তব্য অ'নু'সা'রে, তিনি খুব কমই টেলিভিশনে খবর দেখেন। তিনি পত্রিকা পড়েন না।
বরাবরই কাজ পা'গ'ল মানুষ তিনি। তার ভাষ্য, 'কাজ ও জীবন যাপনের মধ্যে যে ভারসা'ম্য আনতে হয়, এটাতে আমি বিশ্বাস করি না। সত্যিকার অর্থে কাজের বাইরে কোনো কিছুতে আমার আগ্রহ নেই।' নির্বাচনী পরামর্শদাতা হিসেবে প্রশান্ত কিশোরের কাজে বেশ বৈ'চি'ত্র্যও রয়েছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন তাদের হয়ে কাজ করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। আবার এই মোদির ক'ট্ট'র স'মা'লো'চ'ক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়েও কাজ করেছেন তিনি। তার হাত ধ'রেই সর্বশেষ মে মাসের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জয় এসেছে মমতার।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রশান্ত কিশোর একটি ঘো'ষণা দিয়েছিলেন। ৪৪ বছর বয়সী এই পরামর্শক বলেছিলেন, 'আমি দায়িত্ব ছে'ড়ে দিচ্ছি। আমি এবার অন্য কিছু করতে চাই।' কিন্তু সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছেন প্রশান্ত কিশোর। কারণ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিভিন্ন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বি'চক্ষ'ণ এ ভোটকু'শলী। কেন্দ্রে ক্ষ'মতাসী'ন বিজেপিবিরো'ধী একটি জো'ট গঠনের চেষ্টা চা'লাচ্ছেন তিনি। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরের ভাষ্য, সবই জ'ল্প'না।
তিনি বলেন, ''আমি অবশ্যই এমন কিছু করব না, যেটা আমি আগে করেছি। আমরা কাছে অল্প কিছু বিক'ল্প সুযোগ আছে। কিন্তু আমি এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। এমনটা হতে পারে, আমি এমন কিছু করছি, যার সঙ্গে স'রাস'রি রাজনীতি নেই। আমি এই সিদ্ধা'ন্ত নিলে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাব।'' ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আরও তিন বছর রয়েছে। আসছে নির্বাচনেও মোদিকে চ্যা'লে'ঞ্জ ছু'ড়ে দিতে বিরো'ধীদের বে'গ পেতে হবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরের ভাবনা অবশ্য অন্য রকম। তিনি বিশ্বাস করেন, বিজেপি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেনি। এখানে যেকোনো দলের সুযোগ রয়েছে।
কিশোর বলেন, দেশজু'ড়ে রাজনীতি করবে, এমন একটি দল তৈরির কথা বলা সহজ, কিন্তু গড়া কঠিন। আর তৃতীয় একটি জো'ট গঠন করা কার্যকরও হবে না, স্থায়ীও হবে না। আর এমন কোনো জো'ট ভোট পরীক্ষাতেও অংশ নেয়নি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজেপি আবারও ক্ষ'ম'তায় আসার চে'ষ্টা করবে। তবে এটাও ঠিক, বিজেপি অজেয় নয়। সুযোগ আছে বিজেপিকে হা'রা'নোর। এমনকি এমন উদাহরণও আছে, ঠিকঠাক কৌ'শল গ্রহণ করলে এবং শ্রম দিলে তাদের হা'রা'নো যায়।