আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত সপ্তাহে পাকিস্তানে ২৭ বছর বয়সি এক নারীকে প্রথমে গুলি ও পরে গলা কেটে হত্যা করা হয়৷ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিহত সাবেক রাষ্ট্রদূতের মেয়ে নুর মুকাদামকে (২৭) গুলি করে হত্যার পর শিরোচ্ছেদ করা হয়েছিল বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এর আগে পুলিশের তরফ থেকে শিরোচ্ছেদের বিষয়টি না জানানো হলেও সম্প্রতি তা সামনে এসেছে।
ইসলামাবাদের একটি অভিজাত এলাকা থেকে ২০ জুন শওকত মুকাদামের মেয়ে নুরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। শওকত দক্ষিণ কোরিয়া ও কাজাখস্তানে পাকিস্তানি কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কারণে নুরকে গুলি করে হত্যার পর তার শিরোচ্ছেদ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, নুরকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার জাহির জাফর ইসলামাবাদের এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছুদিন আগেই জাহিরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেন নুর। নুরের এই প্রত্যাখ্যান সহজ ভাবে নেননি জাহির। আর এই কারণেই তাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত জাহির মাদকাসক্ত। এমনকি তিনি মানসিক ভাবে সুস্থ নন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নুরকে হত্যার ঘটনায় নারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে এনে ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তানের হাজার হাজার মানুষ। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারও মানুষ। তাদের নারী ও শিশুরাও ছিলেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরাও। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানে নারীর প্রতি সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে৷ কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে সাম্প্রতিক কিছু নারী হত্যার ঘটনা এর ভয়াবহতা সম্পর্কে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে৷ ২৫ জুলাই সিন্ধ প্রদেশে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা করে৷ একই দিনে শিকারপুর শহরে আরেক ব্যক্তি তার স্ত্রী, খালা এবং নিজের দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে গুলি করে হত্যা করে৷ ১৪ জুলাই রাওয়ালপিন্ডিতে এক ৩০ বছর বয়সি নারীকে ধর্ষণের পর ছুরির আঘাত করা হয়৷
১৮ জুলাই সিন্ধ প্রদেশে এক স্বামী তার স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন৷ গত মাসে পেশাওয়ারে এক ব্যক্তি তার সাবেক স্ত্রীসহ দুজনকে 'সম্মানরক্ষার' নামে হত্যা করে৷ সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো নারীর সুরক্ষায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং নারীর অধিকার দমনে সমাজের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে৷ এদিকে, নারীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশের তালিকায় পাকিস্তান বিশ্বে ছয় নম্বরে অবস্থান করছে৷