আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের বুকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল মোহাম্মদ আলি জিন্নার মূর্তি। রোববার বালোচিস্তানের বন্দরশহর গদরে বিস্ফোরণে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় পাকিস্তানের জনকের একটি বিশাল স্ট্যাচু। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে বালোচ বিদ্রোহী সংগঠন ‘বালোচ লিবারেশন ফ্রন্ট’।
পাক সংবাদমাধ্যম ডন সূত্রে খবর, চলতি বছরের শুরুতে বালোচিস্তানের একটি ‘সুরক্ষিত’ এলাকায় জিন্নার মূর্তিটি স্থাপন করেছিল প্রশাসন। গতকাল রাতে সেটির নিচে বিস্ফোরক পুঁতে দেয় বালোচ বিদ্রোহীরা। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কার্যত ধুলোয় মিশে যায় জিন্নার স্ট্যাচুটি। ইতিমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘বালোচ লিবারেশন ফ্রন্ট’।
বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের দখলে থাকা বালোচিস্তানকে স্বাধীন করার চেষ্টা চালাচ্ছে সংগঠনটি। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। বিদ্রোহীদের খোঁজে অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। খোদ পাকিস্তানের বুকে জিন্নার মূর্তি ভাঙার ঘটনায় রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে ইসলামাবাদ।
গত বছর তুরবাট শহরে এক মহিলা ও তাঁর চার বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তান সেনার মদতপুষ্ট সদস্যরা। তারপর থেকেই ক্ষোভের আগুন আর প্রবলভাবে জ্বলে উঠেছে বালোচিস্তানে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হত্যার বিচার চেয়ে শুরু হয়েছে আন্দোলন। সব মিলিয়ে ক্রমে জোরাল হচ্ছে স্বাধীনতার দাবি।
পাকিস্তানের গদর পোর্ট থেকে চীনের শিনজিং প্রদেশ পর্যন্ত মোট ২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটি তৈরি করা হচ্ছে। এই করিডর নিয়ে প্রথম থেকেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছেন বালোচিস্তানসহ গিলগিট-বালতিস্তানের নাগরিকরা। অভিযোগ, পেশিশক্তির জোরে তাদের বাসভূমি কেড়ে নিয়ে এই করিডর তৈরি করছে পাকিস্তান। যাতে পূর্ণ মদত দিচ্ছে চীন। এই অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছেন বালোচ নাগরিকরা।