এ যেন লাঘামছাড়া ভয়ঙ্কর এক হনুমানের গল্প! কিছুতেই তার অত্যাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছিল না গ্রামবাসী। কারো খাবার ছিনিয়ে নিত, গাছের ফল খেয়ে ফেলত, আবার কারো ক্ষেতের ফসল নষ্ট করত। কিছুতেই, কোনভাবেই তাকে বাগে আনা যাচ্ছিল না। অনেকদিন ধরে একটি মাত্র হনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল গ্রামবাসী।
কোন উপায় না পেয়ে চিকমাগালুর জেলার কোট্টিহেগরা গ্রামের বাসিন্দারা শেষমেশ স্থানীয় বন দফতরকে খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনভাবেই হনুমানটিকে ধরা যাচ্ছিল না!
এই ব্যাপারে জগদীশ নামের এক অটোচালক জানান, হনুমানটিকে ধরতে যাওয়ার সময় তার ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল। হাতে কামড়ে দিয়েছিল। এমনকি নিজেকে হামলা থেকে বাঁচাতে অটোর ভিতরে লুকিয়ে ছিলেন জগদীশ। কিন্তু সেখানে গিয়েও হামলা চালানোর চেষ্টা করে ওই হনুমান। এমনকি তিনি বাড়ির দিকে দৌড় দিতেই তার পিছু পিছু হনুমানটি তাড়া করেছিল বলেও দাবি জগদীশের। অবশেষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসী এবং স্থানীয় অটোচালকদের সহযোগিতায় হনুমানটিকে ফাঁদে ফেলেন বন দফতরের কর্মীরা। তারপর ওই গ্রাম থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে বালুর জঙ্গলে গিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়ে আসেন তারা।
আতঙ্কিত এলাকাবাসী ভেবেছিলেন, আর তাদের হনুমানের জ্বালা সহ্য করতে হবে না। কিন্তু তাদের সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে ফের ওই গ্রামে ফিরে এসেছে হনুমানটি। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে এলাকাজুড়ে। সবেমাত্র ওই গ্রামে স্কুল খুলেছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। ফের হনুমানটির আগমনে আতঙ্কিত স্কুল শিক্ষার্থীরা। আবার বন দফতরের কাছে খবর দিয়েছে গ্রামবাসী।
এদিকে সেই হনুমানের গ্রামে ফিরে আসার খবর পেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেন জগদীশ। তিনি বলেন, “ফের ওই হনুমানের আসার খবর শুনে আমি বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমার উপর ফের হামলা চালাতে পারে। বন দফতরকে খবর দিয়েছি হনুমানটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।”