পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় এক ব্যক্তির ঘুম ভাঙাতে রীতিমতো পুলিশ ডাকতে হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির স্ত্রী একটি বিয়ের দাওয়াতে বাবার বাড়ি যাওয়ায় এই ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, চুঁচুড়ার বড়বাজারের এক আবাসিক এলাকার তিন তলার ফ্ল্যাটে সৌমেন নিয়োগী তার স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। তিনি রেলের শিয়ালদহ শাখায় কর্মরত। শুক্রবার সৌমেনের স্ত্রী বর্ধমানের বাপের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। শনিবার সকালে স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথাও হয় তার। এরপর বেলা বাড়লে বেশ কয়েকবার ফোন করে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আবাসিকের এক বাসিন্দা মনোজিৎ দত্তকে ফোন করে তিনি স্বামীকে ডেকে দিতে বলেন।
মনোজিৎ এসে বহুবার কলিংবেল বাজিয়ে ডা'কাডা'কি করেও সাড়াশব্দ পাননি। এসময় আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারাও রীতিমতো জো'রে জো'রে দরজায় ধা'ক্কা দিয়ে চি'ৎকার করে ডা'কাডা'কি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে রীতিমতো চি'ন্তিত হয়ে পড়েন।
এছাড়া শনিবার সকাল থেকে কেউই সৌমেনকে বাইরে বের হতেও দেখেননি। প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক ধরে ডা'কাডা'কি, দরজা ধা'ক্কাধা'ক্কি চলে। শেষ পর্যন্ত মনোজিৎ দত্ত বিষয়টি সৌমেনের স্ত্রীকে জানান। তিনি আ'তঙ্কি'ত হয়ে পড়েন। বাপের বাড়ি থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান ফে'লে রেখে চুঁচুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
এরপর মনোজিৎ দত্তই চুঁচুড়া থানায় খবর দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পর মিস্ত্রি ডে'কে আনা হয়। হা'তু'ড়ি, ছে'নি দিয়ে মিস্ত্রিরা কলা'পসি'বল গেটের তালা ভা'ঙেন। এরপর সেই ফ্লাটের দরজা ভা'ঙা শুরু হয়। টা'নটা'ন উ'ত্তে'জনা ও সা'সপে'ন্স নিয়ে তখন ফ্ল্যাটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভবনের অন্য বাসিন্দারা। মনের ভিতর এক অজা'না আ'শ'ঙ্কাও কাজ করে চলেছে তাদের। তারপর দরজা ভা'ঙতেই সমস্ত যবনিকা প'তন।
দরজা ভা'ঙার পর দেখা যায়, সৌমেন খালি গায়ে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে বেরিয়ে আসছেন। চোখের সামনে ভবনের অন্য বাসিন্দাদের তার ভা'ঙা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বি'স্ম'য় নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন তিনি। ঘড়িতে তখন দুপুর আড়াইটা কিন্তু সৌমেন সেটি টেরই পাননি। হঠাৎ স'ম্বি'ত ফিরে পেয়ে স্ত্রীকে ফোন করার কথা মনে হয় তার। সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে স্ত্রীকে ফোন করে বলেন যে, তিনি ১১টায় বের হবেন। কিন্তু তারপরই ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে চু'প করে যান সৌমেন। পরে নিজের কীর্তি জেনে কিংক'র্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তিনি।