আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সিরিয়ার ওয়াইপিজি/পিকেকে নামে কুর্দি সশস্ত্র সংগঠনকে সমর্থন দিতে বিরত থাকতে বলেছেন সাবেক জেনারেল ও ইউরোপের মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার বেন হগস। তিনি বলেন, এতে সিরিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রুষ্ট হতে পারে। হার্ডসন ইনস্টিটিউটের এক অনলাইন আলোচনায় গত বৃহস্পতিবার তিনি একথা বলেন।
বেন হগস আরও বলেন, তুরস্কের সঙ্গে দ্রুত কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের। এ জন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে বাইডেনের আঙ্কারা সফর করা উচিত। কুর্দি সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। কারণ, প্রায়ই কুর্দিরা প্রতিবেশী তুরস্কে গিয়ে নাশকতা চালাচ্ছে। অনেক সময় প্রাণঘাতী হামলাও চালাচ্ছে। এ জন্য সিরিয়ার কুর্দি যুদ্ধাদের সঙ্গে সখ্যতা করলে তুরস্কের সমর্থন হারাবে যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলে কুর্দিদের চেয়ে এরদোগানের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের বেশী প্রয়োজন বলে সেমিনারে উল্লেখ করেন সাবেক এ মার্কিন কমান্ডার। গত ২০১৫ সাল থেকেই এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রকে বলে আসছে, আইএসকে হঠাকে কুর্দি সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে কোন লাভ হচ্ছে না আমেরিকার।
উল্লেখ্য, মেসোপটেমিয়ান সমতল ভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলের একটি নৃতাত্বিক গোষ্ঠী এই কুর্দিরা। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক, উত্তর-পূর্ব সিরিয়া, উত্তর ইরাক, উত্তর-পশ্চিম ইরান এবং দক্ষিণ-পশ্চিম আর্মেনিয়া অঞ্চলে তারা ছড়িয়ে রয়েছে। আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি কুর্দি এসব পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে। মধ্যপ্রাচ্যের চতুর্থ বৃহত্তম নৃতাত্বিক গোষ্ঠী তারা। বর্তমানে তাদের একটি আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সম্প্রদায় রয়েছে।
জাতিগত, সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তারা একরকম হলেও তাদের ভাষার কোনো স্বতন্ত্র বাচনভঙ্গী নেই। কুর্দিদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্ম এবং উপগোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকলেও তাদের সিংহভাগ সুন্নি মুসলিম। বিংশ শতকের শুরুর দিকে কুর্দিদের অনেকে নিজেদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা করে, যেটি কুর্দিস্তান হিসেবে পরিচিত হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর যুদ্ধ জয়ী পশ্চিমা জোট ১৯২০ সালের সেভর্ চুক্তি অনুযায়ী কুর্দিদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের ব্যবস্থা নেয়।
তবে তিন বছর পরই ঐ সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায় যখন লুসান চুক্তি অনুসারে আধুনিক তুরস্কের সীমানা নির্ধারিত হয় এবং কুর্দিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয় না। কুর্দিরা তখন নিজ নিজ দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এই কুর্দিরা কখনো স্থায়ী একটি রাষ্ট্র পায়নি। ফলে স্থায়ী রাষ্ট্রের দাবিতে ওয়াইপিজি/পিকেকে নামে সশস্ত্র সংগঠনগুলো গড়ে ওঠে। তুরস্ক সরকার দাবি করে ঐ সংগঠনগুলো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করছে এবং তাদের নির্মূল করা আবশ্যক। সূত্র : আনাদোলুর