আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের সঙ্গে 'ব্যাকডোর' বা পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে ভাল ফল আসতে পারে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী মিয়া মুহাম্মদ মানশা। লাহোর চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এলসিসিআই) বুধবার ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশ ডাকে। সেখানে নিশাত গ্রুপের চেয়ারম্যান মিয়া মুহাম্মদ মানশা এ আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘যদি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হয়, তাহলে এ মাসেই পাকিস্তান সফরে আসতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’ এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন। বক্তব্যে উভয় দেশের মধ্যে বিরোধ সমাধানের পরামর্শ দেন পাকিস্তানের এই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং আহ্বান জানান, এ অঞ্চলে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য শুরুর।
মানশা বলেন, ‘যদি অর্থনীতির উন্নতি না হয়, তাহলে দেশ এক বিপর্যয়কর পরিণতির মুখে পড়তে পারে। তাই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করা উচিত পাকিস্তানের। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতিকে উন্নত করার বিষয়টি সামনে আনা উচিত। ইউরোপ দুটি বড় যুদ্ধ করেছে। তা সত্ত্বেও তারা শান্তি ও আঞ্চলিক উন্নয়ন করেছে। স্থায়ী শত্রুতা বলতে কিছু থাকতে পারে না।’
মিয়া মানশা বলেন, সফলতার ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো আভ্যন্তরীণভাবে প্রগতিশীল ও বাজারভিত্তিক নীতি। মূল্য নিয়ন্ত্রণ থেকে পুঁজি বাজার পরিচালনা, বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় প্রভাব কমিয়ে, বিশেষ করে বেসরকারিকরণ ও কঠোরতার মাধ্যমে সত্যিকারভাবে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে পাকিস্তান। রাষ্ট্রের ভাল কাজের প্রশংসা করা উচিত। এটা ভাল খবর যে, দেশেই মোটরওয়ে তৈরি হয়েছে। দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে কিন্তু রাষ্ট্রকে ওইসব খাতের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে, যেখানে বার্ষিক ভিত্তিতে শত শত কোটি রুপি লোকসান হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) সহ বিমানবন্দরগুলোকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে এসবের কার্যকারিতা, মান বৃদ্ধি পাবে। অর্থনৈতিক হয়ে উঠবে এসব খাত। বৃটিশ শাসনের সময়ে একটি লোভনীয় প্রতিষ্ঠান ছিল রেলওয়ে। কিন্তু এখন এটা রাষ্ট্রের জন্য একটি বোঝা হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের উচ্চমূল্যের অন্যতম কারণ হলো রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ। এ সময় তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।