আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ছয় বিঘার মতো নিজেদের জমি খরার কারণে প্রায় অনাবাদি ছিল। ফসল হচ্ছিল না। অগত্যা পেটের টানে পরিবার নিয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ভীমাভা দেবী। সেটাও ২৭ বছর আগের কথা। ভারতের কর্নাটকের বাগালকোট জেলার কাটাগেরি থেকে কাজের খোঁজে তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন উদুপী জেলার তালুরুতে।
দিন আনা দিন খাওয়া সেই নারীই এখন তালুরুর পঞ্চায়েত প্রধান। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলা হয়, কিন্তু ভারতে বলা হয় পঞ্চায়েত প্রধান। অথ্যাৎ ভারতে পঞ্চায়েত মানে বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ ও পঞ্চায়েত প্রধান মানে ইউপি চেয়ারম্যান।
গ্রামে থাকতে কোনো দিন খেতে পেয়েছেন, আবার কোনো দিন কিছুই জোটাতে পারেননি। পরিবারের সদস্যদের খাবার সংগ্রহ করতে তালুরুতে এসেই দিনমজুর হিসেবে কাজ নেন ভীমাভা। তার সততার জন্য তালুরুর একজন বাসিন্দা নিজের খামারে কাজ দেন ভীমাভাকে। সেই থেকেই দিনমজুর হিসেবে কাজ করে আসছেন তিনি।
সম্প্রতি পঞ্চায়েত সভাপতি (ইউপি চেয়ারম্যান) পদে নির্বাচন হয় তালুরুতে। খামারের মালিক ভীমাভাকে ওই পদের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন। পদটি সংরক্ষিত ছিল তফশিলি জাতির জন্য। সে কারণে খামারের মালিক ভীমাভাকে বুঝিয়ে ওই পদের জন্য লড়াইয়ে রাজি করান। আশ্চর্যজনকভাবে ১৬২ ভোটে বিজয়ী হন তিনি।
জেতার পরেও নিজের অতীত ভুলে যাননি ভীমাভা। তিনি এখনো দিনমজুর হিসেবেই কাজ করেন। তবে এখন আর পূর্ণ সময়ের জন্য দিনমজুরের কাজ করেন না। দিনের অর্ধেক সময় পঞ্চায়েত (ইউপি চেয়ারম্যান) অফিসের কাজ সামলান এবং বাকি সময় খামারে কাজ করেন। ভীমাভার চার সন্তান। তার ছোট ছেলে ভারতের সেনাবাহিনীতে কর্মরত।