আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শিক্ষার্থীদের ইউক্রেন থেকে উদ্ধারে তত্পর দিল্লি। আতঙ্ক আর উত্কণ্ঠার মধ্য দিয়ে ইউক্রেন থেকে ২১৯ জনের প্রথম বিমান মুম্বাই বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ফিরেছে শনিবার। ফলে, অভিভাবকার স্বস্তি পেলেন। এদিন রোমানিয়ার বুখারেস্ট থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ২১৯ ডাক্তারি শিক্ষার্থীকে মুম্বাইয় বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনলে তাদের স্বাগত জানান মন্ত্রী পীষূষ গোয়েল।
বুখারেস্ট থেকে দিল্লির পথে এয়ার ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় বিমানও। সেই বিমানে ফিরছেন আরও ২৫০ জন ভারতীয়। তবে প্রথম দফায় ৪৭০ জনের বেশি ভারতীয় রোমানিয়ায় এসেছেন যাদের প্রায় সবাই ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিল। ইয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমানে তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট শিবানী কালরা যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, 'প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে গর্বিত'।
তিনি এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, 'সাধারণ ভাবে ডিউটিতে বেরোনোর সময় এই দৃশ্য দেখতে আমি অভ্যস্ত নই, সেদিন মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে যাচ্ছি, এক এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। আমি নিজেও দারুণ ভাবে উত্সাহী ছিলাম। সেই সঙ্গে কিছুটা চাপা আতঙ্কও মনের মধ্যে কাজ করেছিল। আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা। অবশেষে আমি পেরেছি। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে গর্বিত। আমার বাবা, ভাই পরিবার সকলেই উদ্বিগ্ন ছিল। আমি মাটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকলে নিশ্চিন্ত হয়েছিল'।
প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট হিসাবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন শিবানী। তিনি আরও জানান 'আমি যখন বুদাপেস্টে পৌঁছে ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করি, তখন তারা সবাই ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে ছিল।। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে যাব। তারা ফিরে আসার জন্য উত্তেজিত আমরা যখন দেশের মাটিতে নামলাম তখন সবাই হাততালি দিচ্ছিল। আমি গেট থেকে বেরিয়ে এসে দেখি পরিবারগুলো হাততালি দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। আমি কৃতজ্ঞ যে আমি এই সুযোগ পেয়েছি।' সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস