আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেণ নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার গ্যারি কাসপারভ। দাবার দুনিয়ায় আজও সম্মানিত কাসপারভ। আটবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। তবে অবসর নেওয়ার পর এই কাসপারভ চলে আসেন সক্রিয় রাজনীতিতে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে পুতিনের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়েও ছিলেন।
বরাবরই পুতিন-বিরোধী বলে পরিচিত কাসপারভ। তাকে যারা চেনেন, তারা বলেন পুতিনের নিন্দা না করে না কি এক গ্লাস জলও খান না সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার! সেই কাসপারভ যে পুতিনের যুদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করবেন, তা জানা ছিল। যদিও কাসপারভএ বার একটু অন্য কথা বললেন। পুতিনের সমালোচনা করেও কাসপারভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের এই দুর্দশার জন্য দায়ী পশ্চিমা দেশগুলো। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকার মতো পশ্চিমের শক্তিশালী দেশগুলি। যারা পুতিনের সাহস নিরন্তর বাড়িয়েই গিয়েছে।
কাসপারভের বক্তব্য, এখন জার্মানি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ ইউক্রেনকে অ'স্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে, কিন্তু গত এক বছর ধরে যখন পুতিন এদের চোখের সামনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছেন, তখন একটি শব্দও পুতিনের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেননি এই সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। এই উদাসীনতা কেন? তার কারণও ব্যখ্যা করেছেন তিনি। তার যুক্তি, ''আসলে জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্সের মতো দেশগুলির ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িয়ে আছে রাশিয়ার সঙ্গে। তাই পুতিন যখন সবার সামনে ইউক্রেনের দুর্গের চারপাশে একে একে ঘুঁটি সাজিয়েছেন, তখন তা দেখেও মুখে রা কাড়েনি বাকি সব দেশ।''
যুদ্ধ শুরুর সপ্তাহ খানেক আগে রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা ইউক্রেনের সীমানা থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে। কাসপারভের বক্তব্য, ‘‘পুতিন তো বরাবরই মিথ্যাবাদী। নিজের স্বার্থে মিথ্যা কথা বলা ওঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সে কথা বিশ্বনেতারা জানতেন না, তা তো নয়! তারপরও আমেরিকা মুখ খুলল যুদ্ধের দিন কয়েক আগে। তখন তারা বলছে, রাশিয়া সেনা সরানোর নামে ধোঁকা দিয়েছে ইউক্রেনকে।’’
কাসপারভের প্রশ্ন, রাশিয়া যখন ইউক্রেনের প্রান্তে নৌবহর সাজাচ্ছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো তখন চুপ করে ছিল কেন? ইউরোপ কেন কিছু বলেনি? নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবেই কি চুপ করেছিল তারা? কাসপারভের মতে, পুতিন যাতে নিজেকে অপ্রতিরোধ্য ভাবেন, তার ব্যবস্থা করে দিয়েছে এই দেশগুলোই। পুতিনকে কিছুটা ইচ্ছা করেই মাত্রাছাড়া আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে গিয়েছে তারা। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস এ বার টোল খেয়েছে। পুতিন ভেবেছিলেন কিভের দখল পেতে তাঁর দু’দিন কিংবা তিন দিন লাগবে। তিনি ভাবতে পারেননি ইউক্রেনও প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে