আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একটু সুখের আশায় অনেক স্বপ্ন পুঁজি করে দেশ ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর ইউক্রেনে। সেখানে গিয়ে শুরু করেছিলেন নতুন ব্যবসা। তার ইচ্ছা ছিল বিদেশের মাটিতে গিয়েও দেশের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা। সেই উদ্দেশ্যেই খুলেছিলেন একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ। চলছিলও ভালো কিন্তু সবকিছু এলোমেলো করে দিলো যুদ্ধ।
সেই রেস্তোরাঁই এখন যুদ্ধের মরুভূমির মধ্যে মরুদ্যানের মতো জেগে রয়েছে। লড়াইয়ের ভয়াবহতার মধ্যেই আশ্রয় দিচ্ছে বহু মানুষকে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রয়েছে রেস্তোরাঁটি। সেখানে ভারতীয় রেস্তোরাঁ 'সাথিয়ার' মালিক মণীশ দাভে। তিনি বলছেন, ''যতদিন পারব ততদিন সাহায্য করে যাব। সবাইকে খাবার আর আশ্রয় দেব।''
এখনও তার রেস্তোরাঁয় অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে শিশু, সন্তানসম্ভবা মহিলা, শিক্ষার্থী সকলেই রয়েছেন সাথিয়া রেস্তোরাঁতে। ১৩২ জন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মণীশ। ২০২১ সালে গুজরাট থেকে ইউক্রেনে চলে আসেন মণীশ। ইউক্রেনে পড়তে আসা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্যই খুলেছিলেন এই রেস্তোরাঁ। মাত্র দু’মাস আগেই শুরু হয় এই রেস্তরাঁর পথ চলা।
বোগোমেলেৎস ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির কাছেই অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ। সবকিছু বেশ ভালই চলছিল। কিন্তু হঠাৎই পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। মণীশ জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এতো বোমা, আগুন, বিস্ফোরণ দেখে সকলেই খুব ভয় পাচ্ছেন।” এহেন পরিস্থিতিতে মণীশ বুঝতে পারেন এইসময় মানুষের আশ্রয়ের প্রয়োজন।
তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার রেস্তোরাঁটি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। রেস্তোরাঁর বেসমেন্টেই শরণার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করে ফেলেন। কিন্তু কীভাবে শরণার্থীরা জানতে পারলেন এই নিরাপদ আশ্রয়ের কথা? মণীশ জানালেন, “প্রথমে আমার দোকানে যারা খেতে আসত তাদেরকেই আমার এই উদ্যোগের কথা জানাই।” তারপর সাহায্য নেন সোশ্যাল মিডিয়ার। মণীশ পোস্ট করেন, “যদি কেউ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন, তাহলে এই ঠিকানায় আসুন।”
নিজের রেস্তরাঁর ঠিকানাও দেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছেন শরণার্থীদের। দেশ জাতি নির্বিচারে সকলকেই আশ্রয় দিচ্ছেন মণীশ। যুদ্ধের মধ্যেই এমন মানবিকতার উদাহরণ দেখে আপ্লুত খাস কিয়েভের নাগরিকরাও। নাতালি আন্তন্তসেভা নামে এক ইউক্রেনীয় নাগরিক আশ্রয় নিয়েছিলেন সাথিয়া রেস্তোরাঁয়। তিনি জানিয়েছেন, “একটি পরিস্কার, উষ্ণ ঘরে ঢুকে ভারতীয় মশলার গন্ধ পাওয়ার পর কত খুশি হয়েছিলাম, তা বলে বোঝাতে পারব না।” সূত্র : টাইমস নাও