আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধ মানেই ক্ষয়ক্ষতি আর মৃত্যুমিছিল। আর সেই যুদ্ধ থেকে বাঁচতেই পরিবারকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এক মুঠো শান্তির খোঁজে এ দেশ থেকে ও দেশ কিন্তু যুদ্ধ যেন পিছু ছাড়ছে না তাদের। দুই সন্তান আর স্ত্রীর কথা ভেবে পালানো ছাড়া সামনে আর কোনও পথ নেই।
পালাতে পালাতে ক্লান্ত পরিবার তাই শেষমেশ দুষছেন কপালকেই। এক বছর যেতে না যেতেই ফের পিছু নিল সেই ভয়টা। মাথার উপর চক্কর কাটছে যুদ্ধবিমান। যে কোনও সময় কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। এই আতঙ্ক নিয়েই কোনও মতে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন আজমল রহমানি ও তার পরিবার। আফগানিস্তানে ন্যাটোর হয়ে কাবুল বিমানবন্দরে কাজ করতেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর ধরে ওই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
আফগানিস্তানে নিজের বাড়ি, নিজের গাড়ি, যথেষ্ট উপার্জন, দিব্যি স্বাচ্ছন্দ্যেই সেখানে ছিলেন আজমল। তারপরেই তালেবান ঢুকে পড়লো দেশটায়। বারবার হুমকি আসছিল। যুদ্ধের আঁচ পেয়ে তাই ঘরবাড়ি বেচে পরিবার নিয়ে পালিয়ে এলেন আজমলরা। ইউক্রেনই সে সময় ছিল একমাত্র দেশ, যারা আজমলকে ভিসা দিতে রাজি হয়েছিল। ওডেসায় এসে ঘর বাঁধলেন তারা। এই দেশটায় এসে ভেবেছিলেন, এ জীবনে বেঁচে গেলেন বোধহয় তাঁরা।
ইউক্রেনটাকে সে সময় স্বর্গ বলেই মনে হয়েছিল আজমলদের। তবে সেই সুখ বোধহয় বেশিদিন সইল না কপালে। যে যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে ইউক্রেনে পালিয়ে এসেছিলেন, সেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল স্বর্গের মতো সুন্দর দেশটাতেও। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ঘোষণা করে দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। তারপর থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে ইউক্রেন জুড়ে। শহরের রাস্তায় টহল দিচ্ছে রুশ বাহিনী। ফের সেই আতঙ্কের দিন যেন ফিরে এলো আজমলদের জীবনে। সূত্র : এনডিটিভি