আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণ বাঁচাতে যখন ইউক্রেনের মাটি ছাড়ছে মানুষ, তখন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে মাটি কামড়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করছেন। তিনি বাঙালি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: পৃথ্বীরাজ ঘোষ। চিকিৎসক-অধ্যাপক বলেন, “আমি পালাতে শিখিনি, ওদের জন্য পড়ে রয়েছি।” ওরা মানে তার ছাত্রছাত্রীরা।
ইউক্রেনে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া অসংখ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে হামলা করার পর যারা ভয়ানক বিপদে পড়েছেন। বেশ কিছু শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে দেশে ফিরতে পারলেও এখনও অনেকেই আটকে। পৃথ্বীরাজ জানান, এখনও পর্যন্ত “৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছি৷ এদের সিংহভাগই আমার ছাত্র-ছাত্রী কিন্তু এখনও আমার অনেক শিক্ষার্থী আটকে রয়েছেন৷ তাদের দেশে না ফিরিয়ে আমি একা নিজের প্রাণ নিয়ে ফিরে যাব কী করে!’’
কলকাতার বাড়িতে রয়েছেন পৃথ্বীরাজের বাবা প্রদীপ ঘোষ ও মা ব্রতী ঘোষ। স্বভাবতই ছেলেকে নিয়ে চিন্তিত তারা। ইউক্রেনে রুশ হামলার পর থেকেই উৎকন্ঠায় দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না৷ তবু, ছেলে যে কাজ করছেন তাতে সমর্থন রয়েছে তাদের। প্রদীপ বাবুর কথায়, “আমাদের চিন্তা করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ও জানে ওর কী দায়িত্ব।” সন্তানের উদারতা ও সাহসিকতায় গর্বিত বাবা-মা বলেন, “মানুষের মতো মানুষ হয়েছে ছেলে। দেখবেন, ওর কোনও ক্ষতি হবে না৷”
তিনি যে নিজের ইচ্ছেতেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আটকে রয়েছেন, তা জানিয়ে দিয়েছেন পৃথ্বীরাজ। বলেন, “আমি কিয়েভে রয়েছি নিজের ইচ্ছেতে। কিয়েভ থেকে অধিকাংশ পড়ুয়াকে বের করা গেলেও এখনও এদেশের বিভিন্ন জায়গায় বহু ছেলেমেয়ে আটকে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে আমার ছাত্রছাত্রী। তাদের না ফিরিয়ে ইউক্রেন ছাড়তে পারি না। অকুতোভয় এই চিকিৎসক বলছেন, আমি বাঙালি৷ বাঙালি কখনও কাপুরুষ নয়৷ এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি৷ সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে