রবিবার, ০৬ মার্চ, ২০২২, ০১:২৬:৩৩

রাশিয়ার হাত থেকে নিজেদের শহর বাঁচাতে ব্যারিকেড গড়ছেন ইউক্রেনীয় শিশুরা

রাশিয়ার হাত থেকে নিজেদের শহর বাঁচাতে ব্যারিকেড গড়ছেন ইউক্রেনীয় শিশুরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের একাধিক শহরই এখন রুশ বাহিনীর দখলে। কোথায় গিয়ে যে এই যুদ্ধের শেষ, তা জানেন না বাসিন্দারা। তবু মরিয়া চেষ্টা করতে ছাড়ছেন না তাঁরা। রুশ সেনাকে আটকাতে দ্রুত হাতে গড়ে তুলছেন ব্যারিকেড। আর তাতে হাত লাগিয়েছে একেবারে একরত্তি শিশুরাও। ইউক্রেনের উপকূলীয় শহর ওডেসা। 

শান্ত, সুন্দর দেশটা এক সপ্তাহের মাথায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সব সময় আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে বাসিন্দাদের। এই বুঝি বোমার বৃষ্টি নামল আকাশ থেকে। এই বুঝি মৃত্যু এসে কড়া নাড়ল দরজায়। ইতিমধ্যে অনেক বাসিন্দাই দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন। বেঁচে থাকার আশায় ভিড় জমিয়েছে পড়শি দেশের সীমান্তে। তবে ওডেসার বাসিন্দারা ব্যাস্ত হাতে আগলাচ্ছেন শহর। গড়ে তুলছেন প্রতিরোধ। 

বয়স্ক থেকে শিশু- কেউ পিছিয়ে থাকেননি এ কাজে। যে কোনও ভাবে রুশ হামলার হাত থেকে বাঁচাতেই হবে শহরটাকে। তাই মানব-চেন বানিয়ে দ্রুত হাতে বাসিন্দারা বালি ভরছেন বস্তায়। মহিলারা হাতে হাত লাগিয়ে সেসব তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে। সে সব বয়ে আনা হচ্ছে শহরের মাঝখানে। গড়ে তোলা হচ্ছে ব্যারিকেড। এককালে এই ওডেসা ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থলগুলির একটি। 

দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকেরা আসতেন উপকূল-শহর ঘুরতে। তবে দিন কয়েকের যুদ্ধ সেসব স্মৃতি যেন এক লহমায় মুছে দিয়েছে। এখন শহর জুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যারিকেড গড়ার তাড়া। ইতিমধ্যেই উপকূলীয় শহর খেরসন দখল করেছে রুশ বাহিনী। এখনও মাঝেসাঝেই ওডেসার মানুষের কানে ভেসে আসছে যুদ্ধের সাইরেন। আর সেই শব্দ পেলেই ব্যারিকেড গড়ার কাজ বন্ধ রেখে তারা আশ্রয় নিচ্ছেন মাটির নিচের বাঙ্কারে। তার পর সব একটু শান্ত হলেই আবার বেড়িয়ে এসে হাত লাগাচ্ছেন ব্যারিকেড গড়ার কাজে। 

বাড়ির মহিলারা সদ্যজাতদের রেখে আসছেন মাটির নিচের ওই আশ্রয়েই। স্বাভাবিক জীবনযাপন, সেসব এখন স্বপ্ন বলেই মনে হচ্ছে ইউক্রেনবাসীর। স্কুল নেই, পড়াশোনা নেই। এখন বস্তায় বালি ভরার কাজে ভীষণ ব্যস্ত এগারো বছরের এক খুদে কন্যা। তার মাঝেই কাজ থেকে মুখ তুলে সে জানাল, ওডেসাকে বাঁচাতে পারলেই বাকি সব কিছু আপসেই ঠিক হয়ে যাবে। একরত্তি মেয়ে, সে কতটুকুই বা বোঝে এই যুদ্ধের। তবু নিজের বাড়ি, নিজের শহর বাঁচাতে খুদে কাঁধে তুলে নিয়েছে সে গুরুভার। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে