আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১২ দিন শেষ হলেও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামছে না। সোমবার দুই দেশের তৃতীয় বৈঠকে সমাধানসূত্র বের হয়নি। তবে এখনও অবধি রুশ সেনাকে ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম ইউক্রেন। এই ছোট্ট দেশটি কীভাবে আটকে রেখেছে? বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রস্তুতি, দেশাত্মবোধ, রাশিয়ানদের ভুলের কারণে কিয়েভ এখনও দখল নিতে পারেনি রুশ সেনা।
যেমন ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন ক্রিমিয়া দখল করল, তারপর থেকেই পশ্চিমী দেশগুলির সাহায্যে ক্রমশ মজবুত হয়েছে ইউক্রেন সেনা। ২০১৬ সালে ন্যাটোর সঙ্গে যৌথভাবে ইউক্রেনে স্পেশাল ফোর্স বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। কারণ কিয়েভ আন্দাজ করেছিল, রাশিয়া যদি ইউক্রেন আক্রমণ করে, তাহলে বন্ধু দেশগুলি হয়ত সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। তাই দীর্ঘদিন ধরে শত্রু মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে ইউক্রেন সেনা।
যুদ্ধ ১৩ দিনে পড়লেও রাশিয়া এখনও কিয়েভ দখল করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ান সেনার স্থানীয় ভাষায় জ্ঞান, সামাজিক যোগাযোগ এবং ভৌগলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারনার অভাব রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে ইউক্রেন সেনা রাশিয়ার থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে। এই লড়াইয়ে ইউক্রেনের বড় অংশের মানুষের দেশাত্মবোধ কাজ করছে। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ সেনাকে রোখার জন্য সাধারণ নাগরিকদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বলেছিলেন। আর সেটাই হয়েছে।
আবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন আক্রমণের প্রথম দিকে রাশিয়া রণকৌশলগত অবস্থানে বেশ কিছু ভুল করেছে। মস্কোর ধারণা ছিল, খুব সহজেই তারা ইউক্রেনের দখল নিতে পারবে। আর তাই প্রথমদিকে পদাতিক সেনা পাঠিয়েছিল রাশিয়া। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমদিকে রুশ বিমানসেনাকে ব্যবহারই করেনি রাশিয়া। পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরেছে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে। যার ফলে সতর্ক হয়ে যায় পশ্চিমী দেশগুলি।