আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভোট গণনা শুধু আনুষ্ঠানিকতা। ভারতের রাজনৈতিক মহল নিশ্চিত যে আজ দ্রৌপদী মুর্মুই ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন। এনডিএ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসাবে তার নাম ঘোষণা করার পরই ঝাড়খণ্ডের সাবেক রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মু কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
বিরোধী নেতারা দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বলে কটাক্ষ করেছেন, অন্যদিকে এক কংগ্রেস নেতার মন্তব্য, দ্রৌপদী ভারতের “অশুভ দর্শনের প্রতিনিধি”। দুই ছেলের অকাল মৃত্যু থেকে স্বামী, ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জীবন। দ্রৌপদী মুর্মুর পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য রইলো এখানে৷
ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যা ও কষ্টের শিকার হয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ছেড়ে গিয়েছেন তার স্বামী, দুই ছেলে, মা ও ভাই। ২০০৯ সালে, রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে দ্রৌপদী মুর্মুর এক ছেলের। ওই বছরের এক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী লক্ষ্মণ মুর্মুকে (২৫) তার বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
দ্রৌপদীর স্বামী শ্যাম চরাম মুর্মু ২০১৪ সালে হৃদরোগে আ'ক্রা'ন্ত হয়ে মা'রা যান। ২০১২ সালে এক পথ দু'র্ঘ'টনায় নিজের দ্বিতীয় পুত্রকেও হারিয়েছেন মা দ্রৌপদী মুর্মু। দ্রৌপদী মুর্মুর কন্যা ইতিশ্রী মুর্মু একটি ব্যাঙ্কে কাজ করেন। গণেশ হেমব্রমকে বিয়ে করেছেন ইতিশ্রী। দ্রৌপদী মুর্মুর জামাই একজন রাগবি খেলোয়াড়।
নিজের রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করার আগে দ্রৌপদী মুর্মু ওড়িশার রায়রংপুরে শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের আগে দ্রৌপদী মুর্মুর মাসি সরস্বতী মুর্মু জানান, দ্রৌপদী সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের সময়ে, মেয়েদের সবসময় বলা হত তুমি পড়াশোনা করে কী করবে। লোকেজন ওকে জিজ্ঞাসা করত ও কীই বা কাজ করতে পারবে। এখন দ্রৌপদী তাদের কাছে প্রমাণ করেছে যে ও কী করতে পারে। দ্রৌপদী মুর্মু প্রমাণ করেছেন যে মহিলারা যে কোনও কিছু করতে পারেন।” সূত্র: এএনআই