আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একটু একটু করে তৈরি হওয়া সেই গগনচুম্বী যমজ অট্টালিকা এখন অতীত। একটু আগেই তারা অতীত হয়ে গিয়েছে গোটা নয়়ডা, এমনকি গোটা বিশ্ববাসীর কাছে। মুহুর্তে ধসে পড়লো ভারতের টুইন টাওয়ার।
নয়ডার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সেই যমজ অট্টালিকাকে অবলীলায় মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হল। দুই যমজের কংক্রিটের ‘দেহাবশেষ’ ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। তিন মাস ধরে ‘সৎকারের’ কাজ চলবে এই যমজ অট্টালিকার।
নির্মাণের শুরু থেকেই বিতর্ক সঙ্গী ছিল ভারতের নয়ডার টুইন টাওয়ার। মাটিতে মিশে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বিতর্কেরও অবসান হল। ২০০৫-এ সেক্টর ৯৩এ-তে ১৪টি অট্টালিকা বানানোর অনুমতি পেয়েছিল সুপারটেক নির্মাণ সংস্থা। অট্টালিকাগুলির উচ্চতা ৩৭ মিটারের মধ্যে হতে হবে, এমন নির্দেশ দিয়েছিল নয়ডা প্রশাসন।
২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে এই যমজ অট্টালিকা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল। ইলাহাবাদ হাইকোর্ট ঘুরে সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলা পৌঁছয়। অবশেষে যমজ অট্টালিকা ভাঙার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
এরপর আজ রোববার দুপুর আড়াইটা বাজটেই বেজে ওঠে সাইরেন। এরপর শুরু উল্টো করে গোনার পালা। নয়, আট, সাত, ছয়, পাঁচ... শূন্যে পৌঁছতেই ধুলোর মেঘ তুলে গায়েব জোড়া বহুতল। মুহুর্তে ধসে পড়ে ভারতের টুইন টাওয়ার।
দিল্লীর অদূরে গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে জোড়া বহুতলের বিভিন্ন টাওয়ারে ঠাসা হয়েছিল ৩,৭০০ কেজির বিস্ফোরক। তা দিয়েই উড়িয়ে দেওয়া হল অ্যাপেক্স এবং সিয়েন— সুপারটেকের এই দুই বহুতল। জোড়া বহুতল ভাঙার আগেকার মুহূর্তগুলি ধরা পড়ল সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়।
চোখের পলকেই অ্যাপেক্সের ৩২তলার সঙ্গে মিলিয়ে গেল সিয়েনের ২৯তলা। মোট ১০০০ ফ্ল্যাটের জোড়া বহুতল। বি স্ফো রণের পর নয়ডার আকাশ ঢাকা পড়েছিল ধুলোর চাদরে। ধুলোর ঝড়ে আশপাশের দৃশ্যমানতা কমে যায়। এর আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের। ভিডিও দেখুন...