আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আশা জাগিয়েও ছোঁয়া হল না মাইলস্টোন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কুরসির জন্য জোরদার লড়াই করেও শেষ হাসি হাসতে পারলেন না ঋষি সুনক। কনজারভেটিভ দলের সদস্যরা ভরসা রাখলেন ব্রিটিশ নেত্রী লিজ ট্রাসের উপর।
কিন্তু কেন? এত লড়াই করেও কেন ব্রিটেনের মসদে বসা হল না তার? চলুন দেখা যাক যে ৫ কারণে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারলেন না ঋষি সুনক। এই ৫টি কারণ তার স্ত্রী অক্ষতাকে ঘিরে বিতর্ক, ধনকুবের হওয়া, করনীতি, বরিস জনসনের ইস্তফা এবং কালো চামড়া মানে ব্রিটিশ না হওয়া।
প্রথম থেকে জোর লড়াই দিচ্ছিলেন ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তির জামাই। বহু পোড়খাওয়া সাদা চামড়ার রাজনীতিবিদকে পিছনে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষদফায় এসে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েন তিনি। রাজনৈতিক মহল বলছে, এর অন্যতম কারণ তার স্ত্রী অক্ষতাকে ঘিরে চলতে থাকা বিতর্ক।
কথায় বলে পতির পুণ্যে স্বর্গলাভ। সুনকের ক্ষেত্রে কিন্তু পত্নীভাগ্যে বিতর্ক লাভ হয়েছিল। একদিকে বিপুল সম্পত্তি, তো অন্যদিকে আয়কর ফাঁকি, আবার রাশিয়ার সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের জেরে তদন্তের আওতায় চলে আসেন পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার অক্ষতা।
পেশার কারণে অন্যান্য দেশ থেকে ব্রিটেনে আসা নাগরিকদের বিশেষ কর দিতে হয়। সুনকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সেই কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। তিনি নাকি প্রভাব খাটিয়ে সেই করের আওতার বাইরে চলে আসেন। বলা হয়ে থাকে, অক্ষতার সম্পত্তি নাকি ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের চেয়েও বেশি। এই বিতর্কের আঁচ আসে সুনকের গায়েও।
অভিযোগ, ব্রিটেনের অর্থসচিবের হওয়ার আগে সুনকের নামে থাকা সংস্থার কিছু শেয়ার অক্ষতার নামে স্থানান্তরিত হয়। ইনফোসিসের দপ্তর রয়েছে রাশিয়াতেও। ফলে মস্কোর সঙ্গে অক্ষতার বিশেষ সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়ার সমস্যা মধ্যে ব্রিটেনের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের অবনতি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে অক্ষতার সম্পর্ক প্রভাব ফেলে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে থাকা সুনকের ভাবমূর্তিতে। তবে সমস্ত দোষ যে অক্ষতার তা বললে ভুল করা হবে। অর্থসচিব হিসেবে সুনকের পারফরম্যান্সে খুশি নয় কনজারভেটিভ দলের সদস্যরাই।
তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এক সমীক্ষা বলছে, সুনকের করনীতি না পসন্দ ছিল ৮ শতাংশ সদস্যর। আবার ৫ শতাংশ সদস্য বলেছেন ধনকুবের হওয়ায় সহজে তার কাছে পৌঁছনো যেত না। ‘ডিপ্রাইভড আরবান এরিয়াস’ -এর তহবিলের অর্থ কেন্ট কমিউটারস বেল্ট প্রকল্পে ঢালার পরামর্শ দিয়েছিলেন সুনক। যা পছন্দ হয়নি দলের একাংশের।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, নিজের স্বার্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পিছন থেকে ছুরি মেরেছিলেন। বরিসকে ইস্তফা দিতে কার্যত বাধ্য করেছিলেন সুনক বলেও অভিযোগ। আর এসব কারণেই সুনকের ঠোঁট আর কাপের মধ্যে পার্থক্যটা রয়েই গেল।
আর সবচেয়ে বড় যে বিষয় সেটা হলো কালো চামড়া, মানে ব্রিটিশ না হয়ে একজন এশীয় বংশভূত হওয়া। তাদের ওপর প্রায় তিনশত বছর শাসন করেছেন তারাই যদি তাদের শাসন করে তবে সেটা অপমানের সামিল। ব্রিটিনের তরুণ প্রজন্ম সাদা চামড়া কালো চামড়া না মানলেও বয়স্করাও আজও হারানো অতীত গৌরবে বিশ্বাসী।
কনজারভেটিভ দলের সদস্য যারা যে ভোট দিয়েছেন তাদের বয়স ষাটোর্ধ্ব। তাই বলাই যাই, কনজারভেটিভ দলের সদস্যরা আজও হারানো অতীতকে প্রাধান্য দিয়ে এশীয় বংশভূত ঋষি সুনককে ছেড়ে ব্রিটিশ নেত্রী লিজ ট্রাসকে সমর্থন দিয়েছেন।