আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিপদ কাউকে বলে-কয়ে আসে না। তার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়। সেই ভাবনা থেকে চার বছরের ছোট্ট শিশু মন্টিকে মোবাইল ফোন আনলক করা এবং জরুরি হেল্পলাইনে কল করা শিখিয়েছিলেন মা। কিন্তু এই বিদ্যা যে একদিন পরেই তার জীবন বাঁচাবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি তাসমানিয়ার বাসিন্দা ওয়েন্ডি।
বাড়িতে তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে মাত্র একদিন আগে শেখা পদ্ধতিতে হেল্পলাইনে কল দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মায়ের প্রাণ বাঁচিয়েছে মন্টি। এ ঘটনায় রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চার বছর বয়সেই সবার চোখে ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছে শিশুটি।
গত মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) অ্যাম্বুলেন্স তাসমানিয়ার এক ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, লন্সেস্টনের বাসিন্দা ওয়েন্ডি পেশায় নার্স। তিনি আগেই সন্তান মন্টিকে ফোন কীভাবে আনলক করতে হয় তা শিখিয়েছিলেন। সবশেষ স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবার হেল্পলাইন ‘০০০’-তে কল করা শেখান।
ঘটনার দিন বাড়িতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান ওয়েন্ডি। তখন মায়ের শেখানো নিয়মে ফোন আনলক করে ০০০-তে কল দেয় চার বছরের মন্টি। অ্যাম্বুলেন্স তাসমানিয়ার ফোন অপারেটরকে সে বলে, ‘মা অজ্ঞান হয়ে গেছে’। বাড়ির কুকুরটি ডাকাডাকি করছে, কিন্তু সেটি বন্ধুসুলভ পোষ্য বলেও জানায় শিশুটি।
ফেসবুকের পোস্টে বলা হয়েছে, দুই প্যারামেডিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্মিত হন যে, শিশুটি জানতো কী কী করতে হবে। সে সব নির্দেশনা একেবারে ঠিকঠাক অনুসরণ করেছিল এবং ঘটনার সময় খুব শান্ত ছিল। মন্টি লোকদের বলছে, সে কোনো সুপারহিরো নয়। সে শুধু হিরো (নায়ক)।
শিশুটির মা অ্যাম্বুলেন্স তাসমানিয়াকে বলেছেন, আমি খুবই গর্বিত। সে আমার ছোট্ট হিরো। সে অবশ্যই আজকের মতো বাঁচিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার মনে হয়, এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা তাদের (শিশুদের) বলবো, তুমি যদি চিন্তায় পড়ে যাও, তাহলে এটা করা উচিত। কে জানে, এটি হয়তো জীবনও বাঁচাতে পারে।
উপস্থিত বুদ্ধি আর সাহসিকতার জন্য অ্যাম্বুলেন্স তাসমানিয়ার কাছ থেকে একটি সনদ উপহার পেয়েছে শিশু মন্টি। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার ফুলঝুরি তো রয়েছেই।
একজন লিখেছেন, রাতে তাকে খবরে দেখলাম। সে আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। ছোট্ট একটা চ্যাম্পিয়ন। আরেকজন বলেছেন, অসাধারণ কাজ করেছো মন্টি। তুমি নিশ্চিত এক হিরো। কেমন সাহসী ছোট্ট একটা মানুষ!