রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২, ০৩:৩০:১০

বিয়ের আসরে কবুল না বলে আগে রক্ত দিতে ছুটে গেলেন পাত্র!

বিয়ের আসরে কবুল না বলে আগে রক্ত দিতে ছুটে গেলেন পাত্র!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিয়ের আসরে কবুল না বলে আগে রক্ত দিতে ছুটে গেলেন পাত্র! কাজি কলমা পড়তে শুরু করেছেন। দুলহা-দুলহনের নিকা-কবুলের পর্ব শুরুর আগেই পাত্রের ফোন বেজে উঠল। জানতে পারেন, রক্তদান শিবির চলছে। আগুপিছু না ভেবে বিয়ে না করেই ছুটে যান পাত্র।

বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু হওয়ার থেকেও রক্ত দিয়ে কারও জীবন বাঁচানো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে অসম্পূর্ণ রেখেই রক্ত দান করতে চলে যান পাত্র। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান শহর এলাকায়।

রক্তদান মহৎ দান। কাজি বিয়ের কলমা পড়তে শুরু করেছেন। এরপরেই দুলহা দুলহনের নিকা-কবুলের পর্ব। ঠিক সেই মূহূর্তেই পাত্রের ফোন বেজে উঠেছিল। আর তারপরই সটান বিয়ের মঞ্চ থেকে উঠে চলে গেলেন পাত্র। 

অন্য কোথাও নয়, রক্তদান করতে যান পাত্র। বিয়ে অবশ্য ভেস্তে যায়নি। রক্তদান করে এসে আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন পাত্র। সম্পন্ন হল নিকা-কবুলের পর্ব। শনিবার রাতে এমনই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ধূলিয়ান শহরের দিঘরি পল্লি এলাকায়।

ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গিয়েছে, শনিবার ধূলিয়ান (Dhulian) শহরের দিঘরি পল্লির বাসিন্দা কাজল শেখের সঙ্গে রিঙ্কি খাতুনের বিয়ে ছিল। বিয়ের আসর বসেছিল ধূলিয়ান শহরেরই কাঁকুড়িয়া এলাকায়। কাজি থেকে অতিথি সমাগম হাজির। প্রায় কয়েকশো অতিথি আমন্ত্রিত ছিলেন বিয়েবাড়িতে।

সবেমাত্র কাজি বিয়ের কলমা পড়তে শুরু করেছেন। এরপরেই দুলহা দুলহনের নিকা কবুলের পর্ব। ঠিক সেই মূহূর্তেই কাজল শেখের ফোন বেজে ওঠে। বন্ধু আলাউদ্দিনের শেখের ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আলাউদ্দিন বলেন, "ডাকবাংলায় রক্তদান শিবির চলছে। কিন্তু আজ তোর বিয়ে।" পালটা কাজল শেখের জবাব, "বিয়ে তো কী হয়েছে! আমি আসছি।"

পাত্রের কথা শুনে সবাই হতবাক। নিকা-কবুল পর্ব চলাকালীন কোথায় যাবে বলছে পাত্র! বন্ধুর ফোন কেটেই কাজল শেখ জানান, রক্তদান করতে যাচ্ছেন। বিয়েবাড়িতে উপস্থিত কাজি থেকে শুরু করে সকলেই তাঁকে বাধা দেন। 

কিন্তু, কারও কোন বাধা মানেননি কাজল। তিনি সোজা বিয়ের মঞ্চ থেকে উঠে চলে যান রক্তদান শিবিরে। বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু হওয়ার থেকেও রক্ত দিয়ে কারও জীবন বাঁচানো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কাজল। 

তাই বিয়ে অসম্পূর্ণ রেখেই সোজা রক্তদান করতে চলে যান তিনি। পাত্রের এই কাণ্ড দেখে হতবাক হয়ে যান পাত্রীও। হিজাবের আড়াল থেকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকেন পাত্রী।

বিয়ের মঞ্চ থেকে, একেবারে নিকা-কবুল পর্বের সময় পাত্রের এভাবে উঠে চলে যাওয়ার ঘটনা অনেকেই ভালোভাবে মেনে নেননি। বিয়েটা আদৌ হবে কি! 

এমনটাই ভাবছিলেন বিবাহ-বাসরে উপস্থিত আমন্ত্রিতরা। তাঁদের দুশ্চিন্তা অবশ্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিটে যায়। রক্ত দান করেই বিয়ের আসরে ফিরে আসেন কাজল শেখ। পাত্রকে দেখে স্বস্তি ফেরে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত সকলেক। তারপর পুনরায় বিয়ে শুরু হয়। নিকা-কবুল পর্ব সম্পন্ন করেন কাজল শেখ ও রিঙ্কি খাতুন।-এই সময়

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে