রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২, ০৮:২০:৩৭

বিদ্রোহী বাবার ছেলে থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট! উত্থান-পতনে ভরা জিনপিংয়ের জীবন

বিদ্রোহী বাবার ছেলে থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট! উত্থান-পতনে ভরা জিনপিংয়ের জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি মাসের শেষের দিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০ তম কংগ্রেসে শি জিনপিং তৃতীয়বার চীনের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট হন শি জিনপিং। তারপর থেকেই চীন আরও আ’গ্রা’সী হয়ে উঠেছে। 

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চীনের আ’গ্রাস’ন চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, চীন দেশের অভ্যন্তরে কঠোর নিয়মের বাঁধনে সাধারণ নাগরিককে বেঁধে রেখেছে। শুধু তাই নয়, চীনের অভ্যন্তরে কমিউনিস্ট পার্টির ভিতকে আরও শক্তিশালী করেছে।

নয়ের দশক থেকে চীনে দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন না। ২০১৮ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে সেই আইনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যার জেরে শি জিনপিং আজীবন চীনের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন। 

অনেকে শি জিনপিংকে চেয়ারম্যান মাওয়ের পরে সব থেকে বেশি কর্তৃত্ববাদী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে চীনা প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী মনোভাব, কর্তৃত্ববাদী মনোভাব ক্রমেই দেশের অভ্যন্তরে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমলেই পুনঃশিক্ষা শিবির স্থাপন করা হয়েছিল। বার বার অভিযোগ উঠেছে, পুনঃশিক্ষা শিবিরে নির্মমভাবে অভিযুক্তদের ওপর অত্যাচার করা হয়। পাশাপাশি উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে শি জিনপিংয়ের শাসনের সময় থেকেই। 

যদিও চীনা প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের কো’ভি’ড নীতি নিয়েও মানুষের মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে আটক হয়েছেন এক নাগরিক। অনলাইনে তার অনুগামিরা তাকে নায়কের সম্মান দিয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নায়কের সম্মান দেওয়ার থেকেই বোঝা যায়, দেশের অভ্যন্তরে শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ কতটা তীব্র হয়েছে। কঠোর নিয়মের জেরে তারা শুধু প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। তবে এই সফর তার মোটেও সহজ ছিল না। বিদ্রোহী বাবার ছেলে থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট! উত্থান-পতনে ভরা জিনপিংয়ের জীবন।

১৯৫৩ সালে বেজিংয়ে শি জিনপিং জন্মগ্রহণ করেন। শি জিনপিংয়ের বাবা শি ঝংজুন। তিনি বিপ্লবী ছিলেন। তিনি একজন প্রাক্তন ভাইস প্রিমিয়ার ছিলেন। শি জিনপিংকে এই কারণে রাজপুত্র বলা হয়। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সন্তান। নিজেও দলের শীর্ষপদে রয়েছেন। 

১৯৬৬ সালে চীনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেন। চীনের সংস্কৃতির বিরোধী বলে দেশের নাগরিকদেরই সন্দেহ করা হয়। তাদের জেলে বন্দি করা হয়। সেই সময় শি জিনপিংয়ের বাবাকেও বন্দি করা হয়। কারণ মাও আশঙ্কা করেন, জিনপিংয়ের বাবা দলের অভ্যন্তরে বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করছে।

জিনপিংয়ের বাবার বন্দির পর তাদের পরিবারের বিপর্যয় নেমে আসে। জিনপিংয়ের সৎ দিদি অর্থাৎ জিনপিংয়ের বাবার প্রথম সন্তান আত্মহত্যা করে বলে শোনা যায়। ১৫ বছরের শি জিনপিংকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় তার বাবার কারণে। তাকে সংশোধনাগার বা চীনের পুনঃশিক্ষা কেন্দ্রে সাত বছরের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

সেখানে তিনি সাত বছর পরিশ্রম করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি ত্যাগ করেননি। তিনি সেখান থেকে বেরিয়েই কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের চেষ্টা করেন কিন্তু তার বাবার কারণে তিনি যোগ দিতে পারছিলেন না। অবশেষে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে তিনি দলের শীর্ষস্তরে নেতা হয়ে ওঠেন।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে