আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সরকারি দায়িত্ব পালনের অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে সেদেশের নির্বাচন কমিশন। বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি করার দায়ে তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকার তেহরিক ই ইনসাফ দলের নেতা ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বিদেশি উচ্চপদস্থ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া উপহারগুলো কথিত বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি ।
ক্ষমতাসীন সরকার এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের রুলিং চেয়েছিল। পাকিস্তানের ডন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ট্রাইবুনাল এক লিখিত রুলিংয়ে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ইমরান খানকে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট বা প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হওয়ার অযোগ্য বলে ঘোষণা করে।
খবরে আইনি বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, কমিশনের এ রুলিংয়ের অর্থ হচ্ছে যে ইমরান খান বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ পর্যন্ত এর সদস্য হওয়ার অযোগ্য থাকবেন। পার্লামেন্টে তার আসনে উপ-নির্বাচন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই নিষেধাজ্ঞা আজীবনের জন্য নাকি সীমিত সময়ের তা তাত্ক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ইমরান খান বলছেন, এ বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তবে ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খান গত মাসে স্বীকার করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় পাওয়া অন্তত চারটি উপহার বিক্রি করেছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক রিপোর্টে বলা হয়, বিক্রি করে দেওয়া উপহারের মধ্যে কয়েকটি দামী হাতঘড়ি ছিল, যা কোনো একটি রাজপরিবারের দেওয়া। সেগুলোর মূল্য ছিল ৬ লাখ ৩৫ হাজার ডলার।
ইমরানের সহযোগীরা বলেছেন, তারা এ সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন। তারা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার জন্য দলীয় সমর্থকদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে ইমরান খানের সমর্থকরা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেছে। এ বছরের এপ্রিল মাসে পার্লামেন্টে এক অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন। সূত্র: বিবিসি