আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের নির্বাচনে ধাক্কা খেলেন দক্ষিণপন্থী নেতা জাইর বোলসোনারো। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেলেন জেলবন্দি নেতা। সেদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, বামপন্থী নেতা লুলা ডা সিলভা বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ব্রাজিলের গত নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি, কারণ তাকে জেলে বন্দি করেছিল তৎকালীন সরকার। দীর্ঘদিন জেলে কাটানোর পরে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন লুলা। তার এই সাফল্যকে গণতন্ত্রের জয় বলেই অভিহিত করেছেন সেদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট। দক্ষিণপন্থী নেতা বোলসোনারোকে সরিয়ে এবার ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট পদে বসতে চলেছেন লুলা।
অক্টোবর মাসে ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচন হয়। সেখানে জয় পাওয়ার বিষয়ে একেবারে নিশ্চিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো ও তার দলের কর্মীরা। সকলেই ধরে নিয়েছিলেন, টানা দ্বিতীয়বার বোলসোনারোর নেতৃত্বে ব্রাজিলে সরকার গঠন হতে চলেছে। আমজনতা থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ- কেউই ধারণা করতে পারেননি যে নির্বাচনে জিততে পারেন লুলা।
যদিও ২০১৮ সাল থেকে চার বছর ধরে নানা অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে ব্রাজিলের দক্ষিণপন্থী সরকার। কো'ভি'ডের সময়ে সেদেশের প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার জন্য অনেকাংশে দায়ী ছিল সরকারের ভুল নীতি। তবুও এইভাবে ফিরে আসবেন বামপন্থী লুলা, এমনটা কেউই আঁচ করতে পারেননি।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৫০.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন লুলা। অল্প ব্যবধানেই পিছিয়ে রয়েছেন বোলসোনারো। তার প্রাপ্তি ৪৯.২ শতাংশ ভোট। ইতিমধ্যেই সেদেশের নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে প্রেসিডেন্ট পদে লুলাকে জয়ী ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।
৫২৮ দিন কারাবসের পর বেরিয়ে এসে নির্বাচনে লড়েছিলেন লুলা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে স্বভাবতই খুব খুশি বামপন্থী নেতা। জয়ের পর ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার উপরে হাত রেখে একটি ছবি পোস্ট করেছেন লুলা। ছবির ক্যাপশনে একটিমাত্র শব্দ- গণতন্ত্র।
জয়ের পর প্রেসিডেন্ট হিসাবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে লুলা বলেছেন, দেশে শান্তি ও একতা ফিরিয়ে আনাই তাঁর মূল লক্ষ্য। সেই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন তিনি। বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল। সেই সমস্যার মোকাবিলা করতে অবিলম্বে লিঙ্গ বৈষম্য ও জাতিগত ভেদাভেদ দূর করতে হবে।
সেই সঙ্গে অ্যামাজন অরণ্য-সহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতেও বদ্ধপরিকর লুলা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ব্রাজিলের নয়া প্রেসিডেন্টকে নানা দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা শুভেচ্ছা জানালেও এখনও নীরব রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হারের ফলে বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিলের দক্ষিণপন্থী রাজনীতি।