আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাজপরিবার ঘিরে ফের বিতর্ক। বরাবরই চর্চায় থেকেছে ব্রিটেনের রাজ পরিবার তবে বিগত কয়েক বছরে আলোড়ন ফেলেছিল প্রিন্স হ্যারি-মেগান মর্কেলের বিয়ে এবং তারপরে রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যাওয়া। অভিনেত্রী মেগান মর্কেলকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই নানা জল্পনা-বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
রাজ পরিবারের ‘অংশ’ হলেও, কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় মেগান মর্কেল কোনওদিনই ‘সদস্য’ হয়ে উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছিলেন। এবার প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনী ঘিরেও তৈরি হল বিতর্ক। জানা গিয়েছে, ওই বইতে বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের বিরুদ্ধে বি'স্ফো'রক নানা অভিযোগ এনেছেন হ্যারি। এমনকী, দুই ভাইয়ের মধ্যে হা'তাহা'তিও হয়েছিল বলে লেখা হয়েছে ওই বইতে।
এই হা'তাহা'তির কারণও মেগান মর্কেল ছিলেন বলেই জানা গিয়েছে। প্রিন্স হ্যারি তার জীবনের না বলা অনেক কাহিনিই তুলে ধরেছেন নিজের আত্নজীবনী ‘স্পেয়ার’- এ। সেখানেই তিনি লিখেছেন তার স্ত্রী মেগান মর্কেলের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের কারণে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে বচসা, ব্যাপক হাতাহাতি হয় তার।
আত্মজীবনীতে প্রিন্স হ্যারি লিখেছেন, প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম মেগান মর্কেলের উদ্দেশে ‘অত্যন্ত কঠিন’, ‘অসভ্য’ ‘সংসারে ভাঙন ধরিয়েছে’- এমন সম্ভাষণ করেন। এই মন্তব্য নিয়ে উইলিয়াম ও হ্যারির মধ্যে তুমুল বচসা হয়, উইলিয়াম হ্যারির কলার ধরে টানেন, ধাক্কা মেরে ফেলে দেন মাটিতে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রিন্স হ্যারি আহ'ত হন, তার পিঠে গু'রুতর চো'ট লাগে।
হ্যারি লিখেছেন, “সবকিছু অত্যন্ত দ্রুত হয়েছিল, ও (প্রিন্স উইলিয়াম) আমার কলার ধরে টানে, গলার চেইন ছিড়ে যায়, আমায় ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। কুকুরের খাবারের বাটির উপরে গিয়ে আমি পড়ি, বাটি ভেঙে আমার পিঠে তার কিছু টুকরো ঢুকে যায়। হতভম্ব হয়ে কয়েক মুহূর্ত আমি মাটিতেই শুয়ে থাকি। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে উইলিয়ামকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলি।”
জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মর্কেল যখন রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে আসার কথা ভাবছিলেন, সেই সময় এই বচসা শুরু হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত রাজপরিবারের তরফে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান