আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোনও কল্পকাহিনী বা রূপকথা নয়! সুরেন্দ্র কে প্যাটেলের শৈশব-কৈশোরে ছিল অসনীয় দারিদ্র, ক্ষুধার যন্ত্রাণা। লেখাপড়া চালানোর সামান্য খরচটুকুও জোগার করতে কাজ করেছেন হোটেলে। দু'বেলা দু'মুঠো ভাত জোটাতে বই সরিয়ে রেখে বিড়ি বাঁধার কাজ নিতে হয়ছে।
অর্থ, প্রাচুর্য না থাকলেও ছোট থেকেই ছিল লড়াই করা জেদ। সেই অদম্য মানসিকতার জোরেই কেরালার অখ্যাত গ্রামের ছেলে সুরেন্দ্রন কে প্যাটেল এখন আমেরিকার টেক্সাসের ডিস্ট্রিক্ট জজ। ভারত থেকে আমেরিকায় গিয়েও প্রতিনিয়ত লড়তে হয়েছে।
এমন কী ভিনদেশ থেকে আসা সুরেন্দ্রন কে প্যাটেলের বিচারকর দায়িত্ব সামাল দিতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই! তবে, সাফল্যের সামনে দেওয়াল তুলতে পারেনি কোনও প্রতিবন্ধকতাই।
কেরালার কাসারগড়ের গ্রামে জন্ম সুরেন্দ্রন কে প্যাটেলের। গ্রামীণ ভারতের আরও শিশু-কিশোরের মতো আর্থকষ্টে কেটেছে তাঁর ছোট বেলা। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেক্সাসের ডিস্ট্রিক্ট জজ প্যাটেল জানিয়েছেন, দশম শ্রেণির পর আর পড়ার খরচ দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না তার পরিবারের।
বাধ্য হয়েই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন সুরেন্দ্রন। শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। বইপত্র সরিয়ে রেখে বিড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। সুরেন্দ্রন কে প্যাটেল জানিয়েছেন দশম শ্রেণির পর একবছর দৈনিক মজুরিতে বিড়ি তৈরি করেছেন। এই লড়াইয়ের দিনগুলিই জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী বদলে দিয়েছে।
জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে দৃঢ় সংকল্প ছিলেন সুরেন্দ্রন। পাশে পেয়েছিলেন তার গ্রামের বন্ধুদের। বন্ধুদের সাহায্যেই ফের লেখাপড়া শুরু করেন তিনি। আইনের ডিগ্রি নেন। বিড়ি বাঁধার কাজ ছেড়ে লেখাপড়া শুরুর পর স্থানীয় একটি হোটেলে হাউসকিপিংয়ের কাজ করতেন সুরেন্দ্রন। সেই টাকাতেই চলত তাঁর লেখাপড়া।
আইন পাশ করে প্র্যাকটিসও শুরু করেন। তবে স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। বহু বাধা কাটিয়ে আমেরিকা যাত্রা করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বিচারকের আসনে পৌঁছনোর রাস্তাটিও ফুটে ঢাকা ছিল না।
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুরেন্দ্রন কে প্যাটেল জানিয়েছেন, তিনি যখন টেক্সাসে এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তখন তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। তার উচ্চারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। এমন কী তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারও করা হয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনেও অংশ নিয়েছেন সুরেন্দ্রন কে প্যাটেল, তখনও তাকে নিজের দলের লোকেদের থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়ছে সুরেন্দ্রন কে প্যাটেলের কথায়, অনেকেই বিশ্বাস করেননি যে তিনি সফল হবেন। তবে, তিনি বারবার সকলকে ভুল প্রমাণ করেছেন।
অর্থের অভাবে সেদিনের সেই স্কুল ছাড়া বিড়ি শ্রমিক সুরেন্দ্রই আজ আমেরিকার টেক্সাসে বিচারক। অভাবের জেরে দশম শ্রেণির পরেই ছাড়তে হয়েছিল স্কুল। জীবনযুদ্ধের সৈনিকদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, "কাউকে নিজের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে দেবেন না। ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত একমাত্র নিজের।" সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া